সব মানুষের মধ্যেই দোষ-গুণ বিদ্যমান। অন্যের দোষ গোপন রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে একটি মহৎ গুণ এবং উত্তম চরিত্রের পরিচায়ক। যারা মানুষের দোষ আড়াল করে, তারা সমাজে বিশ্বস্ততা অর্জন করে এবং সম্পর্কও দৃঢ় হয়। বিপরীতে যারা অন্যের দোষ প্রচার করে বেড়ায়, তারা মানুষের আস্থা হারায় এবং সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ে।
আমাদের সমাজে অনেক সময় দেখা যায়, কেউ কারও গোপন কথা যাচাই-বাছাই ছাড়াই ছড়িয়ে দেয়। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা মুসলমানদের দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করো না। যে ব্যক্তি অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায় ও প্রকাশ করে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার দোষও প্রকাশ করে দেন এবং তাকে লাঞ্ছিত করেন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার সব উম্মত ক্ষমা পাবে, তবে যারা নিজের গুনাহ প্রকাশ করে তারা নয়। কোনো ব্যক্তি রাতে গুনাহ করে, আল্লাহ তা গোপন রাখেন; কিন্তু সে সকালে অন্যদের কাছে তা প্রকাশ করে নিজের সম্মান নষ্ট করে ফেলে।
আরেক হাদিসে এসেছে, এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। সে তার ওপর জুলুম করতে পারে না, তাকে শত্রুর হাতে তুলে দিতেও পারে না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট হয়, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের কষ্ট দূর করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার কষ্ট দূর করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।
অন্যের দোষ আড়াল করা কেবল সামাজিক সৌহার্দ্যই রক্ষা করে না, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হয়। তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত নিজের আমল সংশোধনের পাশাপাশি অন্যের দোষ গোপন রাখা এবং অহেতুক সমালোচনা থেকে বিরত থাকা।
সিএ/এমআর


