সৃষ্টিজগতের বিশালতা ও রহস্য মানুষের কৌতূহলকে চিরকাল আকৃষ্ট করে এসেছে। ইসলামি ধর্মতত্ত্বে ‘সাত আসমান’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক ধারণা। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াত এবং হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় সাত আসমানের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে অনেকেই জানতে চান, এই সাত আসমান কি বায়ুমণ্ডলের স্তর, নাকি তা দৃশ্যমান মহাবিশ্বেরও বাইরে বিস্তৃত।
ইসলামি পরিভাষায় আকাশ বা সামা এবং বেহেশত এক নয়। সাধারণ অর্থে আকাশ বলতে আমরা মাথার ওপরের নীল আকাশকে বুঝলেও কোরআনে বর্ণিত আসমান একটি মহাজাগতিক কাঠামো। বেহেশত হলো মুমিনদের জন্য পরকালীন পুরস্কারের স্থান, যা সপ্তম আসমানের ওপরে অবস্থিত। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, বেহেশতের একশটি স্তর রয়েছে এবং সর্বোচ্চ স্তর জান্নাতুল ফিরদাউস, যার ওপরে মহান আল্লাহর আরশ অবস্থিত।
আধুনিক বিজ্ঞান বায়ুমণ্ডলকে কয়েকটি স্তরে ভাগ করেছে। কেউ কেউ কোরআনের সাত আসমানের সঙ্গে এসব স্তরের মিল খুঁজতে চান। তবে কোরআনের আয়াত বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম আসমানেই নক্ষত্ররাজি সুশোভিত। নক্ষত্র ও গ্যালাক্সি বায়ুমণ্ডলে নয়, বরং মহাকাশে অবস্থিত। ফলে দৃশ্যমান মহাবিশ্ব যদি প্রথম আসমানের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে বাকি ছয় আসমানের ব্যাপ্তি মানুষের কল্পনারও বাইরে।
কোরআনে আরও বলা হয়েছে, আসমানগুলো স্তরে স্তরে বিন্যস্ত এবং সৃষ্টিতে কোনো ত্রুটি নেই। হাদিসে মিরাজের ঘটনায় রাসুল (সা.) সাত আসমান অতিক্রম করার বর্ণনা পাওয়া যায়। যদিও আসমানগুলোর দূরত্ব সংক্রান্ত কিছু বর্ণনা দুর্বল সূত্রে এসেছে, তবু তা মহাজগতের বিশালতার ইঙ্গিত দেয়।
সাত আসমানের পাশাপাশি সাত পৃথিবীর কথাও কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। ব্যাখ্যাকারদের কেউ কেউ এটিকে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ স্তরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন, আবার কেউ মনে করেন মহাবিশ্বে পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ থাকতে পারে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানও পৃথিবীসদৃশ গ্রহের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয় না।
ইসলামি দৃষ্টিতে সাত আসমান কেবল একটি বৈজ্ঞানিক ধারণা নয়, বরং স্রষ্টার অসীম ক্ষমতা ও সুশৃঙ্খল সৃষ্টির প্রতীক। আসমানসমূহের স্তরবিন্যাস, নক্ষত্রে সজ্জিত প্রথম আসমান এবং তার ঊর্ধ্বে জান্নাত ও আরশের অবস্থান—সব মিলিয়ে এটি একটি মহাজাগতিক পরিকল্পনার প্রতিফলন।
সিএ/এমআর


