মসজিদে নববীতে অবস্থিত একটি বিশেষ খুঁটি ইসলামের ইতিহাসে গভীর তাৎপর্য বহন করে। রাসূল (সাঃ) মসজিদে নববী নির্মাণের প্রথম দিকে কোনো স্থায়ী মিম্বার ছিল না। তখন খুতবা দেওয়ার সময় তিনি একটি খেজুর গাছের খুঁটির ওপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন বা হেলান দিতেন। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়ার কারণে তাঁর কষ্ট হতো।
ক্রমে মুসলমানদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দূরে বসা সাহাবীদের জন্য খুতবা শোনা ও রাসূল (সাঃ) কে দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে এক আনসারী সাহাবী তিন সিঁড়ি বিশিষ্ট একটি মিম্বার নির্মাণ করেন, যাতে রাসূল (সাঃ) স্বাচ্ছন্দ্যে বসে খুতবা দিতে পারেন এবং সবাই সহজে শুনতে পারে। মিম্বার স্থাপনের দিন রাসূল (সাঃ) যখন প্রথমবার খেজুর গাছের খুঁটিকে অতিক্রম করে নতুন মিম্বারের দিকে এগোলেন, তখন সেই খুঁটি জোরে কেঁদে ওঠে।
হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, একটি মা যেমন সন্তান হারালে কাঁদে, ঠিক তেমনভাবেই খুঁটিটি কাঁপতে কাঁপতে কান্না করছিল। পুরো মসজিদে সেই শব্দ ছড়িয়ে পড়ে এবং সাহাবায়ে কেরাম তা প্রত্যক্ষ করেন। এরপর রাসূল (সাঃ) মিম্বার থেকে নেমে খেজুর গাছের খুঁটিকে আলিঙ্গন করলে তা ধীরে ধীরে শান্ত হয়। তিনি বলেন, সেই মহান সত্ত্বার কসম যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ রয়েছে, আমি যদি একে আলিঙ্গন না করতাম, তবে অবশ্যই তা কিয়ামত পর্যন্ত এভাবে কাঁদতে থাকত।
পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নির্দেশে খেজুর গাছের ওই খুঁটিকে সম্মানের সঙ্গে মসজিদে নববীর ভেতরে, অধিকাংশ বর্ণনা অনুযায়ী মিম্বারের নিচে দাফন করা হয়। বর্তমানে মিম্বারের পেছনে اُسْطُوانَةُ المَخْلَقَة নামে একটি পিলার দেখা যায়, যা উসতুনে হান্নানাহ বা কান্নাকারী খুঁটি নামেও পরিচিত। এটি রাসূল (সাঃ) এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও ঐতিহাসিক স্মৃতির সাক্ষ্য বহন করে।
সিএ/এমআর


