ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী পৃথিবীতে এমন কোনো ঘটনা ঘটে না যা আল্লাহ তায়ালা নির্ধারণ করেননি। মানুষের জীবনের ভালো-মন্দ, সুখ-দুঃখ, সাফল্য-ব্যর্থতা সবই আল্লাহর পূর্ব নির্ধারণের অংশ। তাকদিরে বিশ্বাস করা ইমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাকদিরে বিশ্বাস মানে ভালো ও মন্দ উভয় অবস্থাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে মেনে নেওয়া।
ইসলামী ব্যাখ্যায় প্রতিটি বস্তুর ভেতর আল্লাহ নির্ধারিত স্বাভাবিক গুণ ও সম্ভাবনা রয়েছে, যাকে কদর বলা হয়। মানুষের জীবন পরিচালিত হয় এই নির্ধারিত নিয়মের মধ্যেই। ভালো কিছু পেলে আত্মহারা না হওয়া এবং বিপদে পড়লে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করার শিক্ষা দিয়েছে ইসলাম। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করাই মুমিনের করণীয়।
উলামায়ে কেরাম তাকদিরকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। তাকদীরে মুবরাম হলো চূড়ান্ত তাকদির, যা কখনো পরিবর্তন হয় না। আর তাকদীরে মুআল্লাক এমন তাকদির, যা দোয়া ও সৎকর্মের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে পারে। কুরআন ও হাদিসে তাকদির পরিবর্তনের যে আলোচনা রয়েছে, তা এই দ্বিতীয় প্রকারের তাকদিরের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
হাদিসে এসেছে, ‘দোয়া ব্যতীত অন্য কোনো কিছুই ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে না এবং সৎকাজ ব্যতীত অন্য কোনো কিছুই আয়ু বৃদ্ধি করতে পারে না।’ তবে কেউ কেউ মনে করেন মানুষই নিজের ভাগ্যের নির্মাতা। আবার অনেকে বলেন, মানুষের কোনো স্বাধীনতা নেই। ইসলাম এই দুই চরম ধারণাকে সমর্থন করে না। আল্লাহ মানুষকে কর্ম করার ক্ষমতা ও স্বাধীনতা দিয়েছেন, তবে সবকিছুই তাঁর জ্ঞানের আওতায় ঘটে।
তাকদিরে বিশ্বাস মানুষের মনে ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা সৃষ্টি করে। বিপদাপদকে পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করার মানসিকতা গড়ে ওঠে। জন্ম, মৃত্যু, রিজিক এবং জীবনের প্রতিটি ঘটনা আল্লাহর নির্ধারণেই সংঘটিত হয়— এই বিশ্বাস হৃদয়ে ধারণ করাই প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।
সিএ/এমআর


