পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর বাণী এবং মুসলমানদের জীবনের সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন কিতাব।
আধুনিক যুগে মোবাইল ফোন সহজলভ্য হওয়ায় ধর্মীয় আমল ও ইবাদতের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। অনেকেই মোবাইলে কোরআনের অ্যাপ সংরক্ষণ করেন, নিয়মিত তেলাওয়াত করেন এবং কোথাও কোথাও কোরআনের আয়াতকে মোবাইলের স্ক্রিন বা ওয়ালপেপার হিসেবেও ব্যবহার করেন। এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী—তা নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়।
ইসলামে কোরআনের আয়াত ও আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে যথাসম্ভব সম্মান করা অপরিহার্য। এগুলোর কোনো ধরনের অসম্মান যেন না হয়, সে বিষয়ে মুসলমানকে সর্বদা সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন,
ذٰلِکَ وَمَنۡ یُّعَظِّمۡ شَعَآئِرَ اللّٰهِ فَاِنَّهَا مِنۡ تَقۡوَی الۡقُلُوۡبِ
অর্থ: এটাই আল্লাহর বিধান এবং কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান করলে এটাতো তার অন্তরের তাকওয়ারই বহিঃপ্রকাশ। (সুরা হজ: ৩২)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয়, আল্লাহর নিদর্শনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ঈমান ও তাকওয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সে কারণে কোরআনের আয়াত যেকোনো মাধ্যমেই হোক না কেন, তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা জরুরি।
আলেমদের মতে, মোবাইলের স্ক্রিনে কোরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম বা জিকির থাকলে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে অসম্মান হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ মোবাইল ফোন সবসময় সম্মানের পরিবেশে ব্যবহৃত হয় না। দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল যত্রতত্র রাখা হয়, কখনো মেঝেতে রাখা হয়, চার্জ দিতে গিয়ে নিচে রাখতে হয় এবং অনেক সময় মানুষ তা টয়লেটেও সঙ্গে নিয়ে যায়। এসব পরিস্থিতিতে স্ক্রিনে থাকা কোরআনের আয়াত বা আল্লাহর নাম অসম্মানের শিকার হতে পারে।
এই কারণেই বহু আলেম ও ফিকহবিদ মোবাইলের ওয়ালপেপার বা লকস্ক্রিনে কোরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম বা জিকিরযুক্ত ছবি না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে কোরআনের অ্যাপ ব্যবহার করে তেলাওয়াত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী আয়াত পড়া বা শোনা বৈধ এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই, যদি যথাযথ আদব ও সম্মান বজায় রাখা হয়।
সারকথা হলো, প্রযুক্তির ব্যবহারে ইসলামের মূল নীতিই প্রাধান্য পায়—আল্লাহর বাণীর প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান। মোবাইলের স্ক্রিনে কোরআনের আয়াত রাখার ক্ষেত্রে সেই সম্মান রক্ষা করা কঠিন হলে তা পরিহার করাই উত্তম বলে মনে করেন অধিকাংশ আলেম।
সিএ/এসএ


