দোয়া ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতার মাধ্যমে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার বিষয়ে ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। প্রখ্যাত তাবেঈ মাকহুল (রহ.) বলেছেন, যে ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট দোয়া নিয়মিত পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে এমন ৭০ ধরনের বিপদ থেকে মুক্তি দেন, যেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ বা ছোট বিপদ হলো দারিদ্র্য।
এই দোয়াটি মুসলমানদের মুখে বহুল প্রচলিত এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতার ঘোষণা বহন করে। দোয়াটি হলো:
لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ وَلاَ مَنْجَا مِنَ اللَّهِ إِلاَّ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ওয়ালা মানজাআ মিনাল্লাহি ইল্লা ইলাইহি।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা নেই, কোনো শক্তিও নেই, আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই, কেবল তাঁর কাছেই আশ্রয়। (সুনানে তিরমিজি)
এই দোয়ার মূল শিক্ষা হলো, মানুষ নিজের শক্তি ও সামর্থ্যের ওপর ভরসা না করে সর্বাবস্থায় আল্লাহর সাহায্যের ওপর নির্ভর করবে। পাপ থেকে বাঁচা, নেক কাজের তাওফিক পাওয়া, দ্বীনের ওপর অটল থাকা—সবকিছুই আল্লাহর সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়। মানুষের যে শক্তি, ধৈর্য ও সক্ষমতা, তা সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে দান।
দোয়ার অর্থের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যদি আল্লাহ কোনো অনিষ্ট চান বা কোনো পরীক্ষায় ফেলতে চান, তাহলে তা থেকে রক্ষা করার ক্ষমতা কারও নেই। আবার আল্লাহ যদি রহমত ও হেফাজত দান করেন, তাহলে কোনো বিপদ স্থায়ী হতে পারে না। তাই এই দোয়া মানুষের অন্তরে বিনয়, ভরসা ও আল্লাহমুখী হওয়ার মানসিকতা তৈরি করে।
এই দোয়ার প্রথম অংশ ‘লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ’-এর ফজিলত সম্পর্কে আরও বহু হাদিসে বর্ণনা এসেছে। একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটিকে জান্নাতের ধনভাণ্ডার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, “আমি কি আপনাকে জান্নাতের ধনভাণ্ডারসমূহের একটি ভাণ্ডারের সন্ধান দেব?” আমি বললাম, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসুল। তিনি বললেন, “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ” বলুন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
এই বর্ণনাগুলো থেকে বোঝা যায়, দোয়াটি শুধু বিপদ থেকে রক্ষার মাধ্যম নয়, বরং এটি ঈমানকে শক্তিশালী করা, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা স্থাপন এবং দৈনন্দিন জীবনে ধৈর্য ও আত্মসংযম বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবেও বিবেচিত।
সিএ/এমআর


