ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর নামাজ ফরজ করা হয়েছে। নামাজ মুসলমানের জীবনের অবিচ্ছেদ্য ইবাদত এবং কোনো অবস্থাতেই তা ত্যাগ করার সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক। আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে নামাজকে ইসলামে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী শরিয়তে নামাজ পরিত্যাগ করাকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। যে ব্যক্তি নিয়মিত নামাজ আদায় করে না, তার ঈমান দুর্বল হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার মধ্যে নামাজ নেই, তার ভেতর দীনের কোনো হিস্যা নেই। (মুসনাদে বাজ্জার ৮৫৩৯)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, নামাজের সঙ্গে ঈমান ও দীনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
নামাজ মুমিনের জন্য মেরাজস্বরূপ—এই বাক্যটি ইসলামী সমাজে বহুল প্রচলিত। অনেকেই একে সরাসরি হাদিস হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে হাদিসের প্রসিদ্ধ কোনো গ্রন্থে এই বাক্যটি হুবহু পাওয়া যায় না। যদিও এর মর্ম একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা সমর্থিত হওয়ায়, একে হাদিস দ্বারা সমর্থিত উক্তি বলা হয়।
হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুমিন যখন নামাজে থাকে সে তার প্রতিপালকের সঙ্গে নিভৃতে কথা বলে। (বুখারি ৪১৩)। এই হাদিসে নামাজরত অবস্থায় বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ নামাজে দাঁড়ালে সে তার সামনের দিকে থুথু ফেলবে না। কেননা সে যতক্ষণ তার জায়নামাজে থাকে, ততক্ষণ মহান আল্লাহর সঙ্গে চুপে চুপে কথা বলে। (বুখারি ৪১৬)। এই হাদিসও প্রমাণ করে যে নামাজ অবস্থাই মুমিনের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ সময়।
এই হাদিসগুলোর আলোকে স্পষ্ট হয়, নামাজ শুধু একটি ফরজ ইবাদতই নয়, বরং তা মুমিনের আত্মিক উন্নতি ও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম। সে কারণেই নামাজকে মুমিনের মেরাজ বলা হয়।
সিএ/এসএ


