প্রযুক্তি নির্ভর জীবন আমাদের জীবনযাত্রাকে দ্রুত ও সহজ করেছে। অনলাইনের মাধ্যমে মাত্র দুই দিনে পণ্য পৌঁছে যায়, দূরের রেস্টুরেন্টের খাবার কয়েক মিনিটেই হাতে চলে আসে, আর মেসেঞ্জারে মুহূর্তেই কথাবার্তা আদান-প্রদান হয়। দুই মিনিটে মেসেজের জবাব না পেলে আমরা বিরক্ত হয়ে পড়ি।
এই তাড়াহুড়ো জীবনধারা আমাদের ইবাদত ও দোয়ার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে। আমরা চাই দোয়া করার সঙ্গে সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে। কিন্তু যখন তাৎক্ষণিক ফল দেখা যায় না, তখন প্রশ্ন জাগে—আল্লাহ কি আমার দোয়ার জবাব দিচ্ছেন না? প্রযুক্তি নির্ভর দ্রুতগতির জীবন আমাদের ধৈর্য কমিয়ে দিয়েছে। পার্থিব সকল কিছুর মতো আমরা আল্লাহর কাছেও তাড়াহুড়ো করি, মনে হয়, এখনই সব কিছু প্রয়োজন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার ব্যবস্থা নির্ধারিত নিয়মে চলমান, তাই তাৎক্ষণিক কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে হতাশ হওয়া স্বাভাবিক।
ইসলামের দৃষ্টিতে আন্তরিকতা, ধৈর্য ও ঈমানের সঙ্গে দোয়া করলে তা কখনোই বৃথা যায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একজন বান্দা যতক্ষণ গুনাহের কাজ থেকে বিরত না হয় এবং ধৈর্য ধারণ করে দোয়া চালিয়ে যায়, ততক্ষণ তার দোয়া কবুল হতে থাকে। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, অধৈর্য হওয়া বলতে কী বোঝায়। তিনি বলেন, মানুষ বারবার দোয়া করার পর মনে হয় কবুল হচ্ছে না এবং হতাশ হয়ে দোয়া ছেড়ে দেয়—এটিই অধৈর্যতা। (সহিহ মুসলিম)
কোরআন ও হাদিসে বারবার ধৈর্য ও আন্তরিকতার গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে। ধৈর্য মানুষকে আত্মিকভাবে শক্তিশালী করে। দোয়া করার সময় কেবল দায়িত্বপালনের মতো দোয়া করলেই যথেষ্ট নয়; আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থাকা আবশ্যক। নবীজি (সা.) নিজেও অটল বিশ্বাস ও গভীর মনোযোগ নিয়ে একই দোয়া বারবার করতেন। তাই দোয়া করার পাশাপাশি ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।
সিএ/এমআর


