বিশ্বের মুসলমানরা একটি বিরল ধর্মীয় অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে যাচ্ছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালে একই গ্রেগরিয়ান বা ইংরেজি বছরে দুইবার হজ পালিত হবে এবং তিনবার ঈদ উদযাপন করা হবে। অর্থাৎ, সেই বছর মুসলমানরা দুইটি ঈদুল আজহা, একটি ঈদুল ফিতর এবং দুইবার হজ পালন করবেন।
সৌদি আরবের খ্যাতনামা জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ জানিয়েছেন, হিজরি বা চন্দ্রবর্ষের সঙ্গে সৌরবর্ষভিত্তিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ব্যবধানের কারণে এই বিরল ঘটনা ঘটে। ইসলামি বর্ষপঞ্জি প্রতি বছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে থাকে।
ড. আল-মিসনাদ বলেছেন, ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি প্রথম ঈদুল আজহা পালিত হবে। এটি হিজরি ১৪৬০ সনের ১০ জিলহজের দিন এবং পবিত্র হজের সমাপ্তির দিন হিসেবে কোরবানির ঈদ উদযাপন হবে। এরপর প্রায় ১২ মাস পর আবারও হিজরি বর্ষপঞ্জি পূর্ণ একটি চক্র সম্পন্ন করবে। ফলে একই ইংরেজি বছরের ২৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ঈদুল আজহা পালিত হবে, যা হিজরি ১৪৬১ সনের ১০ জিলহজের দিন। এভাবে একই বছরে দুটি পৃথক হজ অনুষ্ঠিত হবে, যা ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই দুই ঈদুল আজহার আগেই দুটি পৃথক আরাফার দিনও পালিত হবে। আরাফার দিন হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে হাজিরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে দোয়া ও ইবাদতে মগ্ন থাকেন।
এই দুই ঈদুল আজহার মাঝামাঝি সময়ে, ২০৩৯ সালের ১৯ অক্টোবর ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মুসলমানরা রোজা, হজ, কোরবানি, ঈদের নামাজ ও আনন্দ-উৎসব মিলিয়ে এক অনন্য ধর্মীয় চক্রের মধ্য দিয়ে যাবেন।
চন্দ্রবর্ষের এই স্থানান্তরের প্রভাব কেবল হজ বা ঈদেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে একই ইংরেজি বছরে মুসলমানরা দুইবার রমজান পালন করবেন—একবার জানুয়ারিতে এবং আরেকবার ডিসেম্বরে। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল, যার বছর ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের। অন্যদিকে গ্রেগরিয়ান বা ইংরেজি বর্ষপঞ্জি সূর্যভিত্তিক এবং এর দৈর্ঘ্য ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। এই পার্থক্যের কারণে ইসলামী মাসগুলো প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে। ফলে নির্দিষ্ট সময় অন্তরপর এমন ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে, যখন একই বছরে একাধিক রমজান, হজ কিংবা ঈদ একসঙ্গে দেখা যায়। এ ঘটনাগুলি ধর্মীয় ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌতূহলোদ্দীপক।
সিএ/এমআর


