পবিত্র মাহে রমজান ২০২৬ শুরুর সম্ভাব্য সময় ঘনিয়ে আসায় আরব ও ইসলামি বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা। সম্ভাব্য রমজান শুরু হতে এখন ৫০ দিনেরও কম সময় বাকি থাকায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে প্রস্তুতির আবহ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইবাদত, সংযম ও আত্মশুদ্ধির এই মাসকে ঘিরে ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ শুরু হয়েছে।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষায়িত জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব অনুযায়ী অধিকাংশ আরব দেশে ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রমজানের প্রথম দিন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে চাঁদ দেখার ঐতিহ্যগত প্রক্রিয়ার ওপর। সংশ্লিষ্ট দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে রমজান শুরুর ঘোষণা দেবে।
রমজান মাস মুসলিম সমাজে প্রতিবছরই আত্মসংযম, ইবাদত-বন্দেগি ও নৈতিক শুদ্ধতার এক অনন্য সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। এ সময় ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি দান-সদকা, সহমর্মিতা ও সামাজিক সংহতির চর্চা বেড়ে যায়। ব্যক্তি ও সমাজ—উভয় ক্ষেত্রেই রমজান গভীর আধ্যাত্মিক ও সামাজিক প্রভাব রেখে যায়।
হিজরি মাসের সূচনা নির্ধারণে আরব রাষ্ট্রগুলো একটি সুসংহত ও নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে। সাধারণত শাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ও জ্যোতির্বিদরা নির্ধারিত পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে চাঁদ দেখার উদ্যোগ নেন। কোথাও চাঁদ দেখা গেলে পরদিন থেকেই রমজান শুরু হয়। আর চাঁদ দেখা না গেলে শাবান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ করে রমজান শুরু হয়।
রমজান ২০২৬-এর আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা মানসিক ও বাস্তব প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোও আসন্ন পবিত্র মাসকে ঘিরে ইবাদত, শিক্ষা ও সেবামূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনায় মনোযোগ দিচ্ছে।
সিএ/এসএ


