আরবি বর্ষপঞ্জিকার সপ্তম মাস রজব। ইসলামে এ মাসটি বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন চারটি নিষিদ্ধ মাসের একটি। রজব ছাড়াও মহররম, জিলকদ ও জিলহজ—এই চার মাসে যুদ্ধবিগ্রহ ও অন্যায়-অপরাধ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে। জাহেলি আরব সমাজেও এই মাসগুলোতে সংঘাত বন্ধ রেখে মানুষ বিশ্রাম ও আত্মসংযমে সময় কাটাত।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, আসমান ও জমিন সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর কিতাবে মাসের সংখ্যা বারোটি, যার মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস। এই ঘোষণা রজব মাসের মর্যাদা ও গুরুত্বকে স্পষ্ট করে। তাই মুমিনের জন্য এ মাসে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহভীতির চর্চা করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
রমজান মাসের আগমনী বার্তা বহনকারী মাস হিসেবেও রজবের গুরুত্ব রয়েছে। এই মাস থেকেই মূলত রমজানের প্রস্তুতি শুরু হয়। এজন্য অনেক আলেম রজবকে আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলার উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করেন।
তবে রজব মাসকে ঘিরে সমাজে নানা প্রচলিত আমলের কথা শোনা যায়। কেউ বলেন, এ মাসে বিশেষ নফল নামাজ আদায় করতে হয়, কেউ আবার নির্দিষ্ট সংখ্যক নফল রোজা বা বিশেষ ওমরাহ পালনের কথা উল্লেখ করেন। এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তিও দেখা যায়।
ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, রজব মাসের নফল নামাজ কিংবা রজব মাসের নফল রোজা—এমন অনেক আমল আমাদের সমাজে প্রচলিত রয়েছে। তবে শরিয়তে এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। রজব মাসকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্ট কোনো আমল কুরআন বা বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়নি। তবে সম্মানিত মাস হিসেবে রজব মাসে গুনাহ বা পাপাচার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি শরিয়াহ অনুযায়ী অন্যান্য নেক আমল করা যেতে পারে।
আলেমদের মতে, রজব মাসে সাধারণ নফল ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও নফসের পরিশুদ্ধির চেষ্টা করা যেতে পারে। এগুলো কোনো নির্দিষ্ট মাসের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সব সময়ের জন্যই প্রযোজ্য।
এ ছাড়া কেউ চাইলে সম্মানিত মাস হিসেবে রজব মাসে তিন দিন রোজা রাখতে পারেন। কারণ প্রতি মাসেই তিন দিন রোজা রাখার সাধারণ অনুমতি রয়েছে। আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, প্রতি মাসে তিন দিন রোজা পালন এবং রমজান মাসের রোজা—এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত সারা বছর রোজা পালনের সওয়াবের সমান। আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে তিনি বলেন, এতে আগের ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। আশুরার রোজা সম্পর্কে বলেন, এতে আগের বছরের গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়।
সব মিলিয়ে রজব মাস কোনো নির্দিষ্ট অতিরিক্ত আমলের মাস না হলেও, এটি আত্মসংযম, গুনাহ বর্জন ও রমজানের প্রস্তুতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই মাসকে কাজে লাগিয়ে একজন মুমিন তার ইমানি জীবনে নতুন গতি আনতে পারেন।
সিএ/এসএ


