হামকে অনেকেই শুধুমাত্র শিশুদের রোগ হিসেবে মনে করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও এই রোগ দেখা দিতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা আরও গুরুতর হতে পারে।
সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শামীমা ইয়াসমীন বলেন, ‘হাম শুধু শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যারা টিকা নেননি বা আগে কখনও আক্রান্ত হননি, তারা যেকোনো বয়সেই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক প্রাপ্তবয়স্ক ছোটবেলায় টিকা নেননি বা তাদের শরীরে পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি। আবার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সুরক্ষাও কমে যেতে পারে। ফলে ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
বড়দের ক্ষেত্রে হামের লক্ষণগুলো সাধারণত একই হলেও অনেক সময় তা বেশি তীব্র হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখ লাল হওয়া, আলো সহ্য করতে না পারা, কাশি, গলা ব্যথা এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। পাশাপাশি অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ক্লান্তিও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বড়দের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, লিভারের সমস্যা, ডিহাইড্রেশন এবং এনসেফালাইটিসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। গর্ভবতী নারী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।
এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও রোগের তীব্রতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ। যারা নিশ্চিত নন, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় টিকা নিতে পারেন।
সবশেষে ডা. শামীমা ইয়াসমীন বলেন, ‘সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসাই হাম থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে বড় উপায়।’
সিএ/এমআর


