অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের খাবারের পরিচিতি তুলে ধরেছেন শেফ ইসমাইল হোসেন। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই যাত্রা শুরু করা এই তরুণ আজ বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যে এসে একটি রেস্টুরেন্টে কিচেন পোর্টার হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। শুরুতে রান্নার কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও ধীরে ধীরে কাজের ফাঁকে শেফদের কাজ পর্যবেক্ষণ করে রান্নার প্রতি আগ্রহ জন্মায়। অর্থের অভাবে রান্নার বই কিনতে না পারলেও কাছের একটি বইয়ের দোকানে গিয়ে মোবাইলে রেসিপির ছবি তুলে শেখার চেষ্টা করতেন তিনি।
নিজের শেখার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইসমাইল বলেন, “ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে, বাংলাদেশের যে নতুন জেনারেশন যারা রান্না শিখতে চায়, যারা রান্না নিয়ে কাজ করতে চায়, ওদের নিয়ে কিছু করার। যেন আমার যত ক্ষুদ্র জ্ঞানে আমি যতটুকু পারি কিংবা আমি এ পর্যন্ত আজ গত ১৬-১৭ বছর ধরে যে কাজগুলো শিখেছি, যে বড় শেফদের সঙ্গে কাজ করে যেগুলো শিখেছি, ওগুলো যেন আমি ওদের মাঝে দিতে পারি।”
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার পর তিনি অংশ নেন আন্তর্জাতিক রান্নার প্রতিযোগিতা মাস্টারশেফে। সেখানে নিজের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত খাবার ‘হালিম’ এবং আলু দিয়ে গরুর মাংসের ভুনা তৈরি করে বিচারকদের প্রশংসা কুড়ান। সীমিত সময় ও সরঞ্জামের মধ্যে রান্না করেও তিনি দক্ষতার পরিচয় দেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশের খাবার আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার জন্য প্রয়োজন আধুনিক প্রশিক্ষণ ও আপডেটেড কুকিং পদ্ধতি। দেশের কুকিং ইনস্টিটিউটগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মের শেফদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বাংলাদেশি খাবারকে ফাইন ডাইনিং পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। পরিবার ও সহকর্মীদের সহযোগিতাকে নিজের সাফল্যের বড় ভিত্তি হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
সিএ/এমআর


