ঈদুল ফিতরের ছুটিতে যারা ঢাকায় অবস্থান করছেন, তাদের জন্য আকর্ষণীয় একটি ভ্রমণ গন্তব্য হতে পারে উদয়পুর ডেস্টিনেশন। বাড্ডার ১০০ ফিট মাদানী অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থিত এই স্থানটি ঈদের দিন বেলা দুইটা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।
প্রকৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীদের জন্য এখানে রয়েছে নানা ধরনের ফুলের সমাহার। লাখো পিটুনিয়া ফুলের পাশাপাশি গাঁদা, ডায়ান্থাস, চন্দ্রমল্লিকা, বাগানবিলাসসহ বিভিন্ন শোভাবর্ধক গাছ পুরো পরিবেশকে করে তুলেছে রঙিন ও মনোরম। নিচে সাজানো ফুলের টবের পাশাপাশি ওপরে ঝুলন্ত ফুলের সমাহার স্থানটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক সৌন্দর্য।
প্রবেশদ্বার পার হয়ে রিসেপশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দর্শনার্থীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন। এখানে আলাদা কোনো প্রবেশমূল্য নেই, তবে খাবার অর্ডার করেই পুরো জায়গাটি উপভোগ করা যায়।
উদয়পুর ডেস্টিনেশনের বিশেষ আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে মুন্সিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কাঠের বাড়ির আদলে তৈরি দোতলা স্থাপনা। দর্শনার্থীরা এখানে উঠে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকেন। কাঠের মেঝে, বাঁশের ফ্রেমে ঝুলন্ত আলো এবং গ্রামীণ আবহ স্থানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
এছাড়া বিশাল সবুজ মাঠ, দেশি ফলের গাছ এবং খোলা প্রান্তর দর্শনার্থীদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করে। এখানে একই জায়গা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার সুযোগও রয়েছে, যা শহুরে জীবনে বিরল।
উদয়পুর ডেস্টিনেশনে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও রাখা হয়েছে। সাদাটে পাঁচতলা ভবনে রয়েছে ৪৫০ জন ধারণক্ষমতার রেস্টুরেন্ট, ৩৫০ জনের করপোরেট ইভেন্ট আয়োজনের স্থান এবং ২০০ জনের কনফারেন্স রুম। পাশাপাশি রয়েছে কফি শপ, যেখানে চা-কফি ও বিভিন্ন ফলের জুস পাওয়া যায়।
খাবারের ক্ষেত্রে জনপ্রতি ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে। চার সদস্যের পরিবারের জন্য গড়ে ৫ হাজার টাকার প্যাকেজ রয়েছে। শিশুদের জন্য আলাদা মেনুও রাখা হয়েছে।
ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে নতুন বাজার হয়ে মাদানী অ্যাভিনিউ দিয়ে সহজেই পৌঁছানো যায় উদয়পুর ডেস্টিনেশনে। নিজস্ব যানবাহন, সিএনজি বা রিকশায় নতুন বাজার থেকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই গন্তব্য।
সিএ/এমআর


