১৯৯৮ সালে বিজ্ঞানীরা এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করেন, মহাবিশ্ব শুধু প্রসারিতই হচ্ছে না, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রসারণের গতি বাড়ছে। এই অদৃশ্য শক্তিকে ডার্ক এনার্জি নামে অভিহিত করা হয়। তবে এত বছর পরও মহাবিশ্বের প্রকৃত প্রসারণের হার নির্ধারণ করা বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
মহাবিশ্বের প্রসারণের হার নির্ণয়ের জন্য হাবল কনস্ট্যান্ট ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সমস্যাটি হলো, এই ধ্রুবকের মান নির্ধারণে দুটি ভিন্ন পদ্ধতিতে ভিন্ন ফল পাওয়া যাচ্ছে। নিকটবর্তী মহাবিশ্বে টাইপ ১এ সুপারনোভা পর্যবেক্ষণ করে এক ধরনের মান পাওয়া যায়, আর প্রাচীন মহাবিশ্বের কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড বিশ্লেষণ করে পাওয়া যায় ভিন্ন মান। এই দ্বন্দ্বই হাবল টেনশন নামে পরিচিত।
এই সমস্যার সমাধানে বিজ্ঞানীরা এখন মহাকর্ষীয় তরঙ্গ ব্যবহার করছেন। আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী, স্থান-কাল একটি নমনীয় কাঠামোর মতো আচরণ করে। ভারী বস্তু সেখানে বিকৃতি সৃষ্টি করে এবং বড় ধরনের সংঘর্ষে তরঙ্গ তৈরি হয়, যাকে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ বলা হয়।
২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো এই তরঙ্গ শনাক্ত করা হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন ব্ল্যাকহোল ও নিউট্রন স্টারের সংঘর্ষ থেকে আসা তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
গবেষকেরা স্টোকাস্টিক সাইরেন মেথড নামে একটি নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে মহাবিশ্বের পটভূমিতে থাকা সম্মিলিত তরঙ্গ বিশ্লেষণের চেষ্টা করছেন। এই পদ্ধতির মাধ্যমে হাবল কনস্ট্যান্টের একটি নির্ভুল মান নির্ধারণ সম্ভব হতে পারে।
বর্তমান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মহাবিশ্বের প্রসারণ তুলনামূলক দ্রুত হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে এই রহস্য পুরোপুরি সমাধান হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিএ/এমআর


