দক্ষিণ-পশ্চিম তুরস্কের পাহাড়চূড়ায় একসময় গড়ে উঠেছিল শক্তিশালী প্রাচীন নগরী টারমেসোস। খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৩ সালে এই শহর দখলের চেষ্টা করেছিলেন আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট। কিন্তু দুর্গম অবস্থান ও মজবুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে বহু চেষ্টা করেও তিনি সফল হতে পারেননি। পরবর্তীতে শহরটিকে তিনি ‘ঈগলের ঘাঁটি’ নামে আখ্যা দেন।
আজ টারমেসোস জনমানবশূন্য এক বিস্ময়কর ধ্বংসাবশেষ। পাহাড়ের ওপর ছড়িয়ে থাকা ভাঙা সমাধি, মন্দির, দুর্গপ্রাচীর, ভূগর্ভস্থ জলাধার ও প্রাচীন বাজার এই নগরীর অতীত শক্তির সাক্ষ্য বহন করে। বিশেষ করে পাথরের তৈরি থিয়েটারটি পাহাড়চূড়ায় দাঁড়িয়ে ভূমধ্যসাগরের দিকে মুখ করে আছে, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
আন্টালিয়া শহর থেকে প্রায় ৪৫ মিনিটের গাড়ি ভ্রমণে মাউন্ট গুল্লুক-টারমেসোস ন্যাশনাল পার্কে পৌঁছানো যায়। পার্কে প্রবেশের পর আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে উপরে উঠলে শহরের ধ্বংসাবশেষের দেখা মেলে। যে জায়গাটি এখন পার্কিং লট, সেটিই একসময় ছিল নগরীর ব্যস্ত আগোরা।
শহরে ঢোকার মুখেই রয়েছে সমাধিসড়ক, যেখানে প্রভাবশালী বাসিন্দাদের কবরের সারি দেখা যায়। অনেক সমাধি ভেঙে পড়লেও ফলকে খোদাই করা তরবারি ও ঢালের প্রতীক আজও অতীতের ইঙ্গিত দেয়। উপরের দিকে রয়েছে শক্তিশালী নগরপ্রাচীর, যা চতুর্থ বা পঞ্চম শতকে নির্মিত হয়ে শহরকে অজেয় করে তুলেছিল।
রোমানরা সামরিক শক্তির বদলে রাজনৈতিক কৌশলে টারমেসোসের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পাহাড়ের আরও ওপরে রয়েছে জিমনেসিয়াম ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যা নগরবাসীর সামরিক প্রস্তুতির প্রমাণ দেয়। বিশাল ভূগর্ভস্থ জলাধারগুলো একসময় দেড় হাজার টন পর্যন্ত পানি সংরক্ষণ করতে পারত, যা অবরোধের সময় শহরকে টিকিয়ে রাখত।
২০২৫ সালে টারমেসোসে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু হয়েছে। গবেষকরা আশা করছেন, এতে এই অজেয় নগরীর অজানা ইতিহাসের নতুন দিক উন্মোচিত হবে।
সিএ/এমআর


