অভিযাত্রী মাসফিকুল হাসান। টানা ১৮ দিন হাঁটার এই অভিযানে তিনি প্রায় ৬৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন। অভিযানের নাম ছিল ‘ব্রহ্মপুত্র থেকে বঙ্গোপসাগর ক্রস কান্ট্রি হাইকিং অভিযান ২০২৬’।
২৪ জানুয়ারি ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে প্রবেশের স্থান ডিগ্রিরচর থেকে হাঁটা শুরু করেন মাসফিকুল। নদীর শাখা–প্রশাখা, বালুচর ও চরাঞ্চল পেরিয়ে তিনি পৌঁছান বঙ্গোপসাগরের তীরে। এই যাত্রায় তাঁর পা পড়েছে ১২টি জেলা ও ৬টি বিভাগে। পুরো পথজুড়ে নদীভাঙন, অবৈধ বালু উত্তোলন, কারেন্ট জালের ব্যবহার এবং নদীদূষণের চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি।
মাসফিকুল জানান, এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল নদী ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তাঁর অভিযানের স্লোগান ছিল, নদীতে প্রাণের কান্না, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে দাঁড়াও। পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় কাজ করা একটি সংগঠন এই অভিযানে সহযোগিতা করেছে।
যাত্রাপথে তাঁকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। কখনো ভাঙা পাড়, কখনো পথ হারানো, আবার কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবুও স্থানীয় মানুষের সহায়তা ও আতিথেয়তায় তিনি পথ এগিয়ে নিতে পেরেছেন। নদীপাড়ের মানুষের সহজ-সরল সহযোগিতা তাঁর এই অভিযানে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
চর কুকরি–মুকরিতে পৌঁছে সমুদ্রের দেখা পাওয়ার অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৮ দিনের কষ্ট তখন সার্থক মনে হয়েছে। তাঁর মতে, নদীর মতোই মানুষের জীবনও বহমান, বাধা আসবে, তবু এগিয়ে যেতে হবে।
সিএ/এমআর


