ঢাকার মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে গেলেই চোখে পড়ে এক আলাদা পরিবেশ। লাল-নীল-হলুদ আলোয় ঘেরা এক ক্যাফেতে কেউ গান গাইছে, কেউ বই পড়ে সময় কাটাচ্ছে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে মেতে আছে। এই জায়গাটির নাম তিথিডোর ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট।
দুই বছরের মধ্যেই তিথিডোর মোহাম্মদপুরবাসীর কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। এখানে স্কুলফেরত কিশোর-কিশোরীদের আড্ডা যেমন দেখা যায়, তেমনি পরিবারের সঙ্গে আসা মানুষদেরও দেখা মেলে। কেউ উকুলেলে বাজিয়ে গান গাইছে, কেউ আবার কফির কাপ হাতে বইয়ে ডুবে আছে।
তিথিডোর কেবল একটি রেস্টুরেন্ট নয়, এটি একই সঙ্গে একটি বুক ক্যাফে ও মিউজিক্যাল ক্যাফে হিসেবেও পরিচিত। এখানে থাকা বই পড়া যায়, আবার কোনো ফি ছাড়াই বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে। এই বইপড়ার স্বাধীনতাই অনেকের কাছে তিথিডোরকে আলাদা করে তুলেছে।
ক্যাফেটির নামের অর্থ ‘সময়ের বন্ধন’। নামটি বেছে নেওয়ার পেছনে কোনো সাহিত্যিক ব্যাখ্যার চেয়ে উচ্চারণের আনন্দকেই গুরুত্ব দিয়েছেন এর স্বত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপক অনল রায়হান। তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী বলতে চান না। বরং কফির প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই উদ্যোগ।
অনল রায়হান জানান, কাস্টমারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, তাদের গল্প শোনা এবং ভিন্ন ভিন্ন মানুষ দেখাই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অনেক সময় কাস্টমাররা তাঁর জন্য বই বা উপহার নিয়ে আসেন, যা তাঁকে আবেগাপ্লুত করে।
তিথিডোরের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো দেয়াললিখন। প্রেম, বিরহ, রাজনীতি, দর্শন—সব ধরনের লেখা ও আঁকায় ভরা ক্যাফের দেয়াল। পুরো অন্দরসজ্জার ভাবনাও অনল রায়হানের নিজের।
ভবিষ্যতে তিথিডোরকে পরিবেশবান্ধব ও সম্পূর্ণ নিরামিষাশী ক্যাফে হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় স্থানীয় খাবার নিয়ে ছোট ছোট তিথিডোর চালুর স্বপ্ন দেখছেন অনল রায়হান।
সিএ/এমআর


