নতুন বাসায় উঠছেন নাকি পুরনো ঘরটাকে নতুনভাবে সাজাতে চান? ঘর সাজানো মানে শুধু রং, আসবাব বা পর্দা কেনা নয়, এটি একধরনের মানসিক প্রক্রিয়া। রং, আসবাবপত্র ও সাজসজ্জা ঠিকভাবে বেছে নিলে ঘর কেবল সুন্দর হয় না, মানসিকভাবে প্রশান্তিও দেয়। ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা ঘর সাজাতে গিয়ে কিছু ভুল একেবারেই এড়িয়ে চলেন।
সবকিছুর আগে দেয়ালের রং ঠিক করা অনেকেই প্রথমে করেন। কিন্তু ডিজাইনাররা বলছেন, এটি হওয়া উচিত শেষ ধাপে। বাজারে রঙের অপশন হাজার হাজার। আগে আসবাব, পর্দা, কার্পেট, কুশন, বিছানার চাদর ইত্যাদি বেছে নিলে রং নির্বাচন অনেক সহজ হয়। ছোট ঘর, আলো–বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ কম থাকা, জানালার অবস্থান ও দিনের কোন সময়ে ঘরটি বেশি ব্যবহার হবে—এসব বিবেচনা করে রং নির্বাচন করা উচিত। রান্নাঘর বা পড়ার ঘরের জন্য হালকা ও উজ্জ্বল রং, শোবার ঘরের জন্য নরম ও শান্ত রং বেছে নেওয়া ভালো।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডি ডেকোর দেখে অনেকেই হুবহু সেটাই করতে চান। কিন্তু ট্রেন্ড ক্ষণস্থায়ী; বড় আসবাবের ক্ষেত্রে ক্ল্যাসিক ডিজাইন বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ট্রেন্ড যোগ করা যায় ছোট জিনিসে—কুশন কভার, পর্দা, ফুলদানি, টেবিল ল্যাম্প বা দেয়ালের সাজে।
অতিরিক্ত আসবাব বা সাজসজ্জা ঘরকে ছোট ও বিশৃঙ্খল দেখায়। ঘরে ঢুকেই যদি ভারী লাগে বা চলাচলে অস্বস্তি হয়, বুঝবেন জিনিস বেশি হয়ে গেছে। খুব গাঢ় রং বা বিভিন্ন নকশা একসঙ্গে ব্যবহার করলে চোখ ও মন দুটোই ক্লান্ত হয়।
শুধু সুন্দর দেখানোর জন্য আসবাব বেছে নেওয়া ভুল। প্রতিটি জিনিস কেনার সময় ভাবতে হবে আরামদায়ক, পরিষ্কার করা সহজ এবং পরিবারের সবার জন্য উপযোগী কি না। বাংলাদেশের ধুলাবালু, আর্দ্রতা ও গরমের কারণে টেকসই ও পরিষ্কার করা সহজ উপকরণ বেছে নেওয়া জরুরি।
আলোর উৎসের দিকে মনোযোগ দিন। জানালার সামনে হালকা পর্দা রাখলে দিনের আলো ঘরে ভালোভাবে প্রবেশ করবে। ল্যাম্প বা ঝুলন্ত বাতি আলো ও সৌন্দর্যের ভারসাম্য রাখে।
ঘর কেমন হওয়া উচিত—এই ভাবনায় আটকে থাকা ঠিক নয়। ঘর হওয়া উচিত এমন, যেখানে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ঘর মানে শুধু দেখানোর জায়গা নয়, এটি বিশ্রাম ও নিজের মতো থাকার জায়গা।
সুন্দর ঘরের সহজ সূত্র
- আগে ব্যবহার ঠিক করুন, তারপর সাজ।
- কম জিনিসে বেশি কাজ।
- আলো–বাতাসের দিকে নজর।
- ট্রেন্ড নয়, স্বাচ্ছন্দ্যকে অগ্রাধিকার।
সিএ/এমআর


