রাতে বিছানায় শুয়ে ঘুম না আসা অনেকেরই সমস্যা। চোখ বন্ধ করলেই মাথার ভেতরে নানা চিন্তা ঘুরতে থাকে। কেউ আবার মুহূর্তেই ঘুমিয়ে যায়, আবার কেউ দীর্ঘ সময় ছাদ বা দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকে। দুশ্চিন্তা, কাজের চাপ ও এলোমেলো ভাবনা ঘুমকে দূরে ঠেলে দেয়।
লাইফস্টাইল ডেস্ক
২ মিনিটে পড়ুন
মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শক আনন্দিতা ভাগানি ঘুমের আগে মন ও শরীরকে ধীরে ধীরে শান্ত করার কিছু সহজ অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৫টি কার্যকরী অভ্যাস তুলে ধরা হলো—
১. হালকা নড়াচড়া করা: সারাদিন এক জায়গায় বসে থাকলে শরীরের মধ্যে চাপ জমে। হালকা হাঁটা, যোগাভ্যাস বা সহজ ব্যায়াম চাপ কমাতে সাহায্য করে। এতে স্ট্রেস হরমোন কমে এবং ঘুমের হরমোন ধীরে ধীরে কাজ শুরু করে। তবে ঘুমের ঠিক আগে ভারী ব্যায়াম করা উল্টো প্রভাব ফেলতে পারে।
২. বিছানাকে শুধু ঘুমের জায়গা হিসেবে রাখা: অনেকেই বিছানায় শুয়ে মোবাইল ব্যবহার বা কাজের চিন্তা করেন। এতে মস্তিষ্ক বিছানাকে ‘জেগে থাকার জায়গা’ মনে করে। শুয়ে পড়ার ১৫–২০ মিনিটেও ঘুম না এলে উঠে হালকা আলোতে বই পড়া বা স্ট্রেচ করা যেতে পারে। পরে আবার শুয়ে পড়লে ঘুম আসতে সুবিধা হয়।
৩. ঘুমের আগে রুটিন তৈরি করা: ঘুম হঠাৎ আসে না। দিনের ব্যস্ততা থেকে রাতের বিশ্রামের জন্য সময় দরকার। ঘুমের অন্তত আধা ঘণ্টা আগে আলো কমানো, শব্দ কমানো, মোবাইল দূরে রাখা, ডায়েরিতে লেখা বা হালকা স্ট্রেচ করতে পারেন। নিয়মিত করলে শরীর নিজে শান্ত হতে শিখবে।
৪. রাতের খাবার হালকা রাখা: চা, কফি, সিগারেট বা চকোলেট ঘুমের ছন্দে বাধা দেয়। ভারী বা ঝাল খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করে। বিকেলের পর কফি এড়িয়ে রাতের খাবার হালকা রাখা ভালো। হালকা খিদে পেলে কলা বা কিছু বাদাম খাওয়া যেতে পারে।
৫. চিন্তা মস্তিষ্ক থেকে নামানো: জমে থাকা চিন্তাই ঘুমে বাধা দেয়। সন্ধ্যার দিকে কাজ বা দুশ্চিন্তা কাগজে লিখে ফেলুন। কিছু মিনিট ধীরে শ্বাস নিন। মস্তিষ্ক বুঝবে—সব কাজ আপাতত থামানো যায়।
সব মিলিয়ে, ভালো ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়, এটি অভ্যাসের ফল। বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই; প্রতিদিনের ছোট অভ্যাসগুলো মনকে শান্ত করে এবং শরীরকে বিশ্রামের সংকেত দেয়। একটু সময় দিন নিজেকে, ঘুম ধীরে ধীরে আসবেই।
সিএ/এসএ


