বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়–সমুদ্র আর বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি দেখে মুগ্ধ হয়েছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের নেপালি শিক্ষার্থীরা। অনুষদের আয়োজনে দেশভ্রমণের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের ভাষায়, বাংলাদেশ নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর এক দেশ।
১২ দিনব্যাপী এই শিক্ষাসফরে কৃষি অনুষদের ২১ ব্যাচের সি সেকশনের শিক্ষার্থীরা সাজেক, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেন। সফরে ৭ জন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ মোট ৬১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। ভ্রমণ কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেন কৃষি অনুষদের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার ও অধ্যাপক ড. তরিকুল ইসলাম, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোসা. মোহসেনা আক্তার এবং সহকারী অধ্যাপক মো. সোহরাব হোসেন।
ভ্রমণকালে নেপালি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানার পাশাপাশি পাহাড় ও সমুদ্রের বিশালতা এবং পাহাড়ি জনপদের জীবনধারা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। প্রতিটি গন্তব্যে নতুন অভিজ্ঞতা তাঁদের সমৃদ্ধ করেছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
নেপালি শিক্ষার্থী অশোক ঘিমেরে সাজেক সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘জীবনে প্রথমবারের মতো চাঁদের গাড়িতে ভ্রমণ করেছি। শুরুতে কিছুটা ভয় লাগলেও পুরো অভিজ্ঞতাটি ছিল আনন্দঘন ও উপভোগ্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাহাড়ি সৌন্দর্যের এক অপরূপ নিদর্শন সাজেক।’ শীতল আবহাওয়ার কারণে পাহাড়ের চূড়ায় মেঘের ভেতর দিয়ে হাঁটার অনুভূতি তাঁকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে।
বান্দরবান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নেপালি শিক্ষার্থী লাভরাজ আচারিয়া বলেন, ‘বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দেবতাখুমে যাওয়া সম্ভব না হলেও সাঙ্গু নদীর পাড়ে হাইকিং ও জিপ লাইন উপভোগ করেছি। মেঘলায় কাটানো সময় ছিল বিশেষভাবে আনন্দদায়ক।’ তিনি জানান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তায় তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।
অন্যদিকে নিতেশ কুমার যাদবের কাছে কাপ্তাই লেকের অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই ভিন্ন। তিনি বলেন, এত বিশাল লেক তিনি আগে কখনো দেখেননি। লেকের বুকে নৌকা ভ্রমণ এবং সেখানকার মাছের স্বাদ তাঁর মনে দাগ কেটেছে।
সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের স্মৃতি তুলে ধরে কপিল কে সি বলেন, ‘নীল সমুদ্র আর নিরিবিলি পরিবেশ মন ছুঁয়ে গেছে। স্কুবা ড্রাইভিংয়ের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা, সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এবং রাতে সৈকতজুড়ে হাঁটার অনুভূতি আমাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে।’ বাইক রাইড ও সাগরের মাছের স্বাদও তাঁর কাছে ছিল দারুণ অভিজ্ঞতা।
সিএ/এসএ


