বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক সংক্রামক রোগের মধ্যে নিপাহ ভাইরাস অন্যতম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এটিকে টপ-১০ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্যাথোজেনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। কারণ, এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। কোভিড-১৯ সংক্রমণের প্রভাব সামলাতে গিয়েও এই ভাইরাস নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভারতের মহারাষ্ট্রে বাদুড়ের শরীরে নিপাহ ভাইরাসের অ্যান্টিবডি ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। নিপাহ ভাইরাস মূলত একটি জুনোটিক রোগ, অর্থাৎ প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। সাধারণত ফলখেকো বাদুড় প্রধান বাহক হিসেবে পরিচিত। কখনো কখনো শূকরও এই ভাইরাস বহন করতে পারে এবং সেখান থেকে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।
নিপাহ ভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণ শুরুতে সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতোই মনে হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির বমি বমি ভাব, বমি, সর্দি-কাশি, জ্বর এবং শরীরে ব্যথা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, তীব্র দুর্বলতা এবং শরীরে জ্বালাপোড়াভাবও লক্ষ্য করা যায়। পরিস্থিতি গুরুতর হলে মস্তিষ্কে সংক্রমণ বা এনসেফালাইটিস ঘটতে পারে, যার ফলে খিঁচুনি, অচেতনতা এবং কোমার মতো ঝুঁকি থাকে। তাই নিপাহ ভাইরাসের উপসর্গ হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
বর্তমানে নিপাহ ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকা নেই যা সম্পূর্ণভাবে রোগ সারাতে সক্ষম। চিকিৎসা মূলত সাপোর্টিভ কেয়ারের ওপর নির্ভরশীল। রোগীকে পর্যাপ্ত তরল দেওয়া, অক্সিজেন থেরাপি এবং উপসর্গ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে মৃত্যুঝুঁকি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।
তবে নিপাহ ভাইরাসের চিকিৎসা এখনো চিকিৎসকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। যেখানে বাদুড়ের উপস্থিতি বেশি, সেখানে সতর্ক থাকা জরুরি। গাছে ঝুলে থাকা ফল বা কাটা ফল খাওয়ার আগে ধোয়া আবশ্যক, কারণ এগুলোতে বাদুড়ের লালা বা মূত্র থাকতে পারে। বাদুড় বা অসুস্থ শূকরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অসুস্থ ব্যক্তির কাছে গেলে সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক তথ্য জানা এবং সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। নিপাহ ভাইরাসের প্রতিরোধ মূলত সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি এবং পরিবেশগত সতর্কতার ওপর নির্ভর করে।
সিএ/এমআর


