ভালোবাসা মানে কেবলই একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হওয়া নয়, বরং নিরাপত্তা, আস্থা ও গভীর যোগাযোগের জায়গা তৈরি করা। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ও আরও দৃঢ় করতে ২০২৬ সালে কোন বিষয়গুলোতে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে, তা নিয়ে সম্প্রতি নিজের মতামত জানিয়েছেন মার্কিন সম্পর্কবিষয়ক কোচ, লেখক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জিলিয়ান টুরেকি। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ৩৫ লাখের বেশি এবং প্রায় দুই দশক ধরে তিনি রিলেশনশিপ কোচ হিসেবে কাজ করছেন। ‘জিলিয়ান অন লাভ’ পডকাস্টের মাধ্যমেও তিনি সম্পর্ক নিয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
জিলিয়ান বলেন, ‘সম্পর্কে দায়িত্ব নিন। নেতিবাচক কিছু অনুমান করে নেওয়ার আগেই অপর পক্ষকে প্রশ্ন করুন বা খুলে বলুন। সঙ্গীকে এমনভাবে ভালোবাসুন যাতে নিরাপত্তা, আস্থা ও গভীর যোগাযোগের অনুভূতি তৈরি হয়।’ তাঁর মতে, আবেগপ্রবণ সহজলভ্যতা এবং খোলামেলা যোগাযোগই আগামী বছরে সম্পর্কের সবচেয়ে বড় চাহিদা হয়ে উঠবে।
২০২৬ সালে সম্পর্কে সুস্থ ছন্দ বজায় রাখতে প্রথম যে অভ্যাসটির কথা বলা হচ্ছে, তা হলো একসঙ্গে নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা। সপ্তাহে অন্তত চার দিন প্রায় আট হাজার কদম হাঁটা, একসঙ্গে জিমে যাওয়া, ঘুরতে বের হওয়া, নিয়মিত ব্যাডমিন্টন বা দাবা খেলা, এমনকি সপ্তাহান্তে একসঙ্গে সিনেমা বা সিরিজ দেখাও সম্পর্কের মধ্যে ইতিবাচক শক্তি ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
সম্পর্ক যত দিনেরই হোক, একে অন্যকে ডেট করা বন্ধ করা যাবে না বলেও মনে করেন তিনি। বিয়ের পরও সাজগোজ করে বাইরে ডিনারে যাওয়া, বারান্দায় কফি হাতে বসে সময় কাটানো কিংবা নতুন প্রেমের দিনের মতো শুধু গল্প করেই অবসর কাটানো সম্পর্কের উষ্ণতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সঙ্গীর কথা মন দিয়ে শোনা ২০২৬ সালে সম্পর্কের আরেকটি বড় দাবি। কেবল দৈনন্দিন খোঁজখবরের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ না থেকে লম্বা কথোপকথনে যাওয়া জরুরি। সঙ্গীর সংকট, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, অতীতের কোনো ট্রমা বা চলমান কোনো পরিস্থিতিতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কি না, সেসব বিষয় জানার চেষ্টা করাই গভীর সংযোগ তৈরি করে।
ভালোবাসার সম্পর্কে সুস্থ সীমারেখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একে অপরের প্রতি ভালোবাসা থাকা মানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা নিজস্বতার জায়গা হারিয়ে ফেলা নয়। সম্মানজনক দূরত্ব ও ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রাখলে সম্পর্ক আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ায়।
ছোট ছোট প্রশংসা ও স্বীকৃতিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে বলে মত জিলিয়ানের। বড় কোনো প্রমাণের চেয়ে নিয়মিত ছোট প্রশংসা, সঙ্গীর প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং একে অপরকে অনুপ্রাণিত করাই সম্পর্ককে টিম স্পোর্টের মতো এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। তিনি মনে করিয়ে দেন, দাম্পত্য বা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তখনই সফল হয়, যখন দুজনই নিজেকে একই দলের অংশ হিসেবে ভাবতে পারেন।
সিএ/এমআর


