দীর্ঘ মিটিং, একটানা ক্লাস বা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় হঠাৎ চোখ ভারী হয়ে আসা অনেকেরই অভিজ্ঞতা। এমন সময়ে ঘুমিয়ে পড়া পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর করে তোলে, বিশেষ করে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বা দায়িত্বপূর্ণ আলোচনায়। তবে কিছু কার্যকর কৌশল অবলম্বন করলে ঘুমঘুম ভাব কাটিয়ে সজাগ থাকা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘুম ও স্নায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক অভ্যাস এবং কিছু ছোট কৌশলই এই সমস্যার সমাধান করতে পারে।
আগের রাতের ঘুমই মূল ভরসা
মিটিংয়ের সময় ঘুম আসার মূল কারণ তৈরি হয় আগের রাতের অপর্যাপ্ত ঘুম থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য জনস হপকিন্স’ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. র্যাচেল সালাস জানান, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি। তিনি আরও বলেন, মিটিংয়ের আগে নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করলে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।
অল্প সময়ের ঘুমেও উপকার
দিনের মাঝামাঝি ক্লান্তি অনুভব করলে অল্প সময়ের ঘুম নেওয়াও কার্যকর। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ডা. টনি কানিংহাম বলেন, মাত্র ছয় মিনিটের ঘুমও সতর্কতা বাড়াতে পারে। তবে আধা ঘণ্টার বেশি ঘুমালে গভীর ঘুমে চলে যাওয়ার কারণে ঘুম ভাঙার পর আরও ঝিমুনি অনুভূত হতে পারে।
হালকা চলাফেরা সতেজ রাখে
ঘুম ঘুম ভাব কাটাতে হালকা ব্যায়াম বা দ্রুত পায়ে হাঁটা উপকারী। এটি হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি করে এবং শরীরে এমন হরমোন নিঃসৃত হয় যা ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। মিটিংয়ের আগে খোলা জায়গায় কিছুক্ষণ হাঁটলেও মন ও শরীর সতেজ থাকে।
ঠাণ্ডা পানিতে সতেজতা
ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করেও ঘুম কাটানো সম্ভব। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. অমিতা সেহগাল বলেন, মিটিংয়ের আগে মুখ ধুয়ে নিলে স্নায়ু উদ্দীপ্ত হয় এবং ঝিমুনি অনেক কমে।
পানীয় বাছাই
মিটিং চলাকালে পানীয় নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। সকালে এক কাপ কফি সতেজ থাকতে সাহায্য করতে পারে, তবে দিনের শেষভাগে ক্যাফিন নেওয়া রাতের ঘুমকে বিঘ্নিত করতে পারে। যারা ক্যাফিন এড়িয়ে চলেন, তাদের জন্য পানি সেরা বিকল্প।
সক্রিয় অংশগ্রহণ
চুপচাপ বসে থাকলে ঘুম আসার সম্ভাবনা বেশি। আলোচনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা, নোট নেওয়া বা প্রশ্ন করা মন সতেজ রাখতে সহায়তা করে।
নিয়মিত ঘুম এবং পরিবেশ
প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের পরিবেশ অন্ধকার, ঠাণ্ডা ও আরামদায়ক হলে ঘুমের মান বৃদ্ধি পায়। শোবার ঘরে বৈদ্যুতিক যন্ত্র রাখা থেকে বিরত থাকা, এবং ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে এসব বন্ধ করা বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও উঠার অভ্যাস শরীরের জৈবঘড়ি ঠিক রাখতে সাহায্য করে। সকালে প্রাকৃতিক আলোতে বের হওয়া ঘুমচক্র নিয়ন্ত্রণে রাখে।
সিএ/এমআর


