শীত এলেই দেশের বিভিন্ন জলাভূমি ও হাওরে ভিড় জমায় পরিযায়ী অতিথি পাখি। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এই সময়টা তাই বিশেষ আনন্দের। কয়েক সপ্তাহ ধরে অতিথি পাখি দেখার পরিকল্পনা থাকলেও সময়ের অভাবে তা বাস্তবায়ন হচ্ছিল না। অবশেষে সিলেটের ঘাসিটুলা এলাকায় অতিথি পাখির আগমনের খবর পেয়ে হঠাৎ করেই যাত্রার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্যের আগ্রহেই মূলত এই ভ্রমণের সূচনা।
শুক্রবার দুপুরে রওনা দেওয়া হলেও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সড়কে যানজট ছিল। তবে উজ্জ্বল রোদ আর শীতের মোলায়েম আবহাওয়া সেই কষ্ট কিছুটা হলেও ভুলিয়ে দেয়। প্রথমবার যাওয়ায় পথে পথে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা নিতে হয়। এক পর্যায়ে পান দোকানের সামনে থেমে অতিথি পাখির অবস্থান জানতে চাইলে জানা যায়, সামনের দিকে ডান পাশে একটি ঝিলের মতো জায়গা আছে, সেখানেই পাখিদের দেখা মিলবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী এগোতেই চোখে পড়ে কচুরি পানায় ঘেরা জলাভূমিতে দল বেঁধে থাকা অতিথি পাখি। পাখিদের কোলাহলে চারপাশ যেন প্রাণ ফিরে পায়। গাড়ি থেকে নেমে কাছ থেকে তাদের বিচরণ দেখা যায়। স্মার্টফোনে ছবি তোলার চেষ্টা হলেও দূরত্ব ও আলোর কারণে কাঙ্ক্ষিত ছবি পাওয়া যায়নি। আরও ভালোভাবে দেখার আশায় সামনে এগোতে থাকলে স্থানীয় এক ব্যক্তি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।
সরু গলিপথ আর বাড়ির ফাঁক দিয়ে এগোতে এগোতে আরও কাছ থেকে দেখা মেলে অতিথি পাখিদের। পরে ওই ব্যক্তি বলেন, আমার সঙ্গে আসুন, আরেকটি জায়গায় নিয়ে যাই। সেখান থেকে আরও পরিষ্কার দেখতে পাবেন। তাঁর সঙ্গে একটি বাসার দোতলায় উঠে গেলে পুরো জলাভূমি চোখের সামনে খুলে যায়। উড়ন্ত পাখির ঝাঁক, পানিতে নামা আর আবার উড়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে শীতের শেষ বিকেলটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

শীতকালে এমন প্রাকৃতিক অভিজ্ঞতা শুধু চোখের আরাম নয়, মানসিক প্রশান্তিও এনে দেয়। শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির মাঝে কয়েক ঘণ্টা কাটানোর এই সুযোগ অতিথি পাখি দেখার আনন্দকে আরও গভীর করে তোলে।
ঢাকা থেকে ঘাসিটুলায় যাওয়ার পথও তুলনামূলক সহজ। রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড থেকে সিলেটগামী বাস কিংবা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে আন্তনগর ট্রেনে সিলেট পৌঁছে সেখান থেকে অল্প ভাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঘাসিটুলা যাওয়া যায়। পাখি দেখার জন্য সকালের সময় সবচেয়ে উপযোগী বলে জানান স্থানীয়রা।
সিএ/এসএ


