Tuesday, March 24, 2026
22 C
Dhaka

বইমেলায় আসছে শামীর মোন্তাজিদের হাইজেনবার্গের গল্প

শামীর মোন্তাজিদ ক্যান্সার ও স্টেম সেলের উপর পিএইচডি করছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। নিয়মিতই বিজ্ঞান বিষয়ক নানান ব্লগ লিখতেন বিভিন্ন সাইটে কিন্তু এবার আর ব্লগ লিখলেন নাহ, লিখে ফেললেন “হাইজেনবার্গের গল্প” নামক বইটি। অধ্যয়ন থেকে হয়েছে বইটি। বইটি পরিবেশিত হবে তাম্রলিপি প্যাভিলিয়নে। বইটির প্রচ্ছদ করেছে মারয়ুক রহমান রিফাত। বইটি নিয়ে কথোপকথন হয় তার সাথে……

সীমান্ত: “হাইজেনবার্গের গল্প” বইটা কি নিয়ে লেখা?

শামীর মোন্তাজিদ: বিজ্ঞানের নানা আবিষ্কারের পেছনকার মজার মজার কাহিনি, কিছু বিজ্ঞানীর জীবন কথা, কিছু বিতর্কিত বিজ্ঞান বিষয়ক ঘটনার সমাবেশে সৃষ্টি হয়েছে হাইজেনবার্গের গল্প বইটি। ৯২ পাতার এই বইটি ২৫টি গল্প বর্ণিত হয়েছে। বইটি এমনভাবে লেখা যাতে করে যেকোন বয়সের, যেকোন বিভাগের মানুষই এই বইটি পড়ে বুঝতে পারবে।

সীমান্ত: বইটার নাম হাইজেনবার্গের গল্প কেন দিলেন?

শামীর মোন্তাজিদ: ১০ মিনিট স্কুলের কেমিস্ট্রি শিক্ষক হিসেবে আমার ছাত্ররা হাইজেনবার্গ নামটা বেশ পছন্দ করেছিলো। যদিও সবাই ব্রেকিং ব‍্যাড সিরিজের ওয়াল্টার হোয়াটের সাথে আমার মিল খোজাঁর চেষ্টা করে, আমি মূলত এই নামটা ব‍্যবহার করি অন‍্য একটি কারণে। ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ সাহেব আমার সবচেয়ে পছন্দের বিজ্ঞানী। রাজনীতি, বিজ্ঞান, ধর্ম— অনেক ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন প্রভাবশালী। তাই বিজ্ঞানবিষয়ক কিছু করার সময় হাইজেনবার্গ নামটাই আমি বেশী ব‍্যবহার করি।

সীমান্ত: বই লেখার ইচ্ছে জাগলো কেন?

শামীর মোন্তাজিদ: লেখা-লেখির অভ‍্যাসটা বেশ অনেকদিন ধরেই আমার উপর চেপে বসেছে। আমি বিজ্ঞানের মানুষ; আমার বসবাস ল‍্যাবরেটরীর সাদা আলোর নীচে। সেই জীবনটা বেশ কঠিন পরিশ্রমের; প্রায়শই রাজ‍্যের ক্লান্তি ভর করে শরীরটার উপর। এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সাধারণত আমি ল‍্যাব থেকে বের হয়ে রাস্তার ধারের একটা কফিশপে ঢুকে পড়ি। গরম ধোঁয়া তোলা তিতা স্বাদের কালো বর্ণের তরলে চুমুক দিতে দিতে ল‍্যাপটপটা বের করে আরম্ভ করি লেখা-লেখি। বেশির ভাগ সময়ে সেই গল্পগুলোতেও চলে আসে আমার ল‍্যাবের বিজ্ঞান।

২০১৭ সালের শুরু দিকে আমার আদরের ছোট ভাই ফাহমিদের সফটওয়ার ফার্ম (battery low interactive) আমার নামে একটি ব্লগ ওয়েবসাইট বানিয়ে দেয় www.shamirmontazid.com ।নিজের লেখা বিজ্ঞান আর ভ্রমণ বিষয়ক গল্পগুলো একটু একটু করে প্রকাশ করতে থাকি ফেইসবুকে। এই সাইটটায় প্রতি সপ্তাহে প্রায় চার-পাঁচ হাজার মানুষ আমার লেখা পড়তে আসে। আমি বেশ অবাক হয়ে যাই। ফেইসবুকের জঞ্জালে কেটী প‍েরী এবং ক‍্যাট ভিডিও বাদ দিয়ে আমার বিশাল বিশাল ঘুমপাড়ানী বিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা প্রবন্ধ পড়তে মানুষ কেন আগ্রহী হবে?

কিছু মানুষের কাছে আমি সরাসরি কারণটা জানতে চাইলাম। ১০ মিনিট স্কুলের আদরের সহকর্মী অভীপ্সু (IBA,JU) বলেছিলো, “ভাইয়া, আমি ব‍্যবসায় শিক্ষার ছাত্র কিন্তু বিজ্ঞানকে ভালোবাসি। কঠিন রিসার্চ পেপার পড়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু, যতবারই আপনার লেখা সায়েন্স আর্টিকেল পড়েছি ততবারই বিজ্ঞানে একটু বেশী আকৃষ্ট হয়েছি।” অভিপ্সুর কথাটা বেশ মনে ধরলো। বিজ্ঞান তো কেবল যারা সায়েন্স বিভাগে পড়ে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। আমার ল‍্যাবের বিজ্ঞানটা সবার। এর আবিষ্কারের আনন্দটাও তাই সবাই সমানভাবে উদযাপন করবে। অক্সফোর্ডের বন্ধু আনিসুল করিম সবসময় আমার গল্প বলার ক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করে থাকে। তাই, শেষ মেষ ঠিক করে ফেললাম যে, একটা বিজ্ঞান বিষয়ক গল্পের বই লিখবো যা বিজ্ঞানের ছাত্র না হয়েও সবাই পড়তে পারবে।
ব্লগ থেকে বই লেখার পেছনের মূল কৃতিত্বটা অধ‍্যয়ন প্রকাশনীর তাসনোভা আপুর।

তার সাথে প্রথম মিটিং-এর পর আমি ইংল‍্যান্ডের অক্সফোর্ডে পিএইচডি করতে চলে আসি। ফেইসবুক মেসেঞ্জারে তিনি দিনের পর দিন আমাকে পান্ডুলিপি পাঠানোর জন‍্য তাগিদ দিতেন। এই শনিবার, আগামী রবিবার করে করে দুই মাস পর আমি তাকে ব্লগ সাইট থেকে পূর্ব প্রকাশিত ১৫ টি গল্প-প‍্রবন্ধ একসাথে করে পাঠাই। উনি বললেন, এগুলো নাকি বই হিসেবে পড়তেও ভালো লাগবে। যেহেতু প্রকাশক মানুষ বলেছেন, সেহেতু আশায় বুক বাধঁলাম। যেই মানুষটা গত দেড় বছরে মাত্র ১৫টা বিজ্ঞান বিষয়ক ব্লগ লিখেছে সেই মানুষটাই মাত্র একমাসে আরো নতুন ১০টা গল্প লিখতে মনস্থির করলো। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ অ‍্যামস্টারড‍্যামের এক কফিশপে বসে শেষ গল্পটা লিখে ফেললাম। পূর্বপ্রকাশিত ১৫টি এবং নতুন লেখা ১০টি গল্পসহ মোট ২৫টি কাহিনী থাকছে “হাইজেনবার্গের গল্পে”।

সীমান্ত: বইটি নিয়ে আপনার প্রত‍্যাশা কেমন?
শামীর মোস্তাজিদ: আশা করি বইটি পড়ে কিছু ছেলে-মেয়ে বিজ্ঞানী হবার স্বপ্ন দেখবে। আর বাকীরা অন্তত আমাদের জীবনে বিজ্ঞানের অবদানকে অনুধাবন করতে শিখবে। বইটির গল্পগুলো বন্ধুদের আড্ডায় জায়গা করে নিলে আমার বইটি সফল হবে। বইটি প্রি অর্ডার করতে চাইলে এই লিংকে গিয়ে করতে পারবেন
https://bit.ly/2Rc2Xw7

সাক্ষাতকার নিয়েছে: গোলাম মোর্শেদ সীমান্ত

spot_img

আরও পড়ুন

ইসলামে দান ও মানবতার শিক্ষা

ইসলাম মানবিকতা ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। সমাজের অসহায়, দরিদ্র...

চার্জ দীর্ঘস্থায়ী করতে যা করবেন

দৈনন্দিন ব্যবহারে স্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া অনেকের...

ম্যালওয়্যার থেকে স্মার্টফোন সুরক্ষার উপায়

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং ব্যক্তিগত তথ্য...

কাবিননামা পূরণে সচেতনতা জরুরি

বিয়ের সময় কাবিননামা পূরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও ধর্মীয়...

অফলাইনে পথ দেখাবে গুগল ম্যাপ

দৈনন্দিন যাতায়াতে গুগল ম্যাপ বর্তমানে অন্যতম নির্ভরযোগ্য অ্যাপ। নতুন...

সহজ রেসিপিতে মাছের কাবাব

সহজ উপকরণে ঘরেই তৈরি করা যায় সুস্বাদু মাছ-মটরশুঁটির কাবাব।...

রহমত পেতে যেসব গুণ প্রয়োজন

আল্লাহর রহমত মানুষের জীবনে আশার আলো জাগায় এবং হতাশা...

সহজ উপায়ে বেগুন বাহার

প্রতিদিনের একঘেয়ে খাবারের বাইরে ভিন্ন স্বাদের কিছু খেতে চাইলে...

জিম ছাড়াই ফিট থাকার কার্যকর কৌশল

জিমে না গিয়েও শক্তিশালী শরীর গড়ে তোলা সম্ভব—এমনটাই বলছেন...

বিমানযাত্রীদের স্বস্তি দেবে নতুন প্রযুক্তি

বিমানবন্দরে লাগেজ হারানো বা ভুল জায়গায় চলে যাওয়ার সমস্যা...

পরনিন্দা থেকে দূরে থাকার উপায়

গীবত বা পরনিন্দা একটি মারাত্মক নৈতিক ব্যাধি, যা মানুষের...

ইসলামে সফলতার মূল চাবিকাঠি কী

ইসলামে প্রকৃত সাফল্য শুধু দুনিয়াবি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়,...

সরকার জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছে: জামায়াত আমির

সরকার জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে...

সম্পর্ক নষ্ট না করে ‘না’ বলার কৌশল

পরিচিত কেউ টাকা ধার চাইলে অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েন এবং...
spot_img

আরও পড়ুন

ইসলামে দান ও মানবতার শিক্ষা

ইসলাম মানবিকতা ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে গুরুত্ব দিয়ে দান-খয়রাতের মাধ্যমে সম্পদ বণ্টনের ওপর জোর দেয়। অর্থ...

চার্জ দীর্ঘস্থায়ী করতে যা করবেন

দৈনন্দিন ব্যবহারে স্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া অনেকের জন্যই একটি সাধারণ সমস্যা। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে বা বিদ্যুৎ না থাকলে এই...

ম্যালওয়্যার থেকে স্মার্টফোন সুরক্ষার উপায়

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ, ছবি, ব্যাংকিং লেনদেনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজের কেন্দ্রবিন্দু। ফলে ডিভাইসটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি...

কাবিননামা পূরণে সচেতনতা জরুরি

বিয়ের সময় কাবিননামা পূরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও ধর্মীয় প্রক্রিয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে এতে ভুল-ত্রুটি ঘটে। এসব ভুলের পেছনে মূলত অজ্ঞতা, সামাজিক সংকোচ এবং...
spot_img