পথে থাকা কুকুর বা বিড়াল হত্যা একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং এটি জনস্বাস্থ্য ও পশু সুরক্ষার জন্য বড় সমস্যা সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, এ ধরনের পশু হত্যা নিষ্ঠুরতা ও মানবিক অপরাধ হিসেবে ধরা হয় এবং এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
আইন কী বলে?
বাংলাদেশে পশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধ করার জন্য বিশেষ বিধান রয়েছে। ১৯২০ সালে প্রণীত “পশু সুরক্ষা আইন” অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি জেনেবুঝে বা অবহেলায় প্রাণীকে আঘাত করে বা হত্যা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে এবং শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। ২০১০ সালে এই আইন সংশোধন করা হয়, যাতে পশু হত্যা বা অমানবিক আচরণের জন্য আরও কঠোর শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।
কোন ব্যক্তি মামলা করতে পারবেন?
পথ কুকুর বা বিড়াল হত্যা হলে সাধারণত অভিযোগ দায়েরের দায়িত্ব স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বা ইউনিয়ন পরিষদের ওপর থাকে। তবে যেকোনো নাগরিক, পশু অধিকার রক্ষা সংস্থা বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও এই ধরনের ঘটনার বিষয়ে মামলা করতে পারে। প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক তদন্ত করে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করতে পারেন, এবং প্রাণী অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলোও মামলা দায়েরে সহায়তা করে।
শাস্তি কী?
“পশু সুরক্ষা আইন” অনুযায়ী, জেনেবুঝে বা অমানবিকভাবে প্রাণী হত্যা করলে শাস্তি প্রযোজ্য।
শাস্তির ধরন:
১) জরিমানা: প্রাথমিক শাস্তি হিসেবে ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
২) কারাদণ্ড: হত্যাটি অত্যন্ত নিষ্ঠুর হলে এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
৩) অবহেলাজনিত হত্যা: সড়ক দুর্ঘটনা বা অজ্ঞাত কারণে প্রাণী মৃত্যু হলেও শাস্তি আরোপ হতে পারে, তবে হালকা।
৪) বিষ প্রয়োগ: প্রাণীকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করলে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে।
আইনের প্রয়োগে সমস্যা:
বাংলাদেশে আইন থাকলেও বাস্তবায়নে কিছু সমস্যা দেখা দেয়।
১) প্রমাণের অভাব: অনানুষ্ঠানিক ও অপরিচিত স্থানে হত্যার ঘটনা প্রমাণ করা কঠিন।
২) আবেগগত দ্বন্দ্ব: অনেক মানুষ মনে করেন যাযাবর প্রাণী হত্যা অপরিহার্য, যা ভুল ধারণা।
৩) আইন প্রয়োগের দুর্বলতা: পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের মনোযোগের অভাব, কার্যকর তদন্তের অভাবে অপরাধী সহজে পার পেয়ে যায়।
সমাধান:
১) সচেতনতা বৃদ্ধি: জনগণের মধ্যে পশুদের প্রতি সহানুভূতি ও মানবিক মনোভাব তৈরি করা।
২) আইন প্রয়োগ কঠোর করা: পুলিশের প্রশিক্ষণ ও মনোযোগ বৃদ্ধি করে অপরাধের প্রতিকার নিশ্চিত করা।
৩) প্রাণী অধিকার সংস্থার ভূমিকা: সংস্থাগুলোকে সক্রিয়ভাবে মামলা, নজরদারি ও সচেতনতা বাড়াতে সহায়তা করা।
লেখিকা: অ্যাডভোকেট, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
সিএ/এসএ


