বাংলার বাউল ও লোকসংগীত অঙ্গনের এক নিবেদিতপ্রাণ সাধক, প্রখ্যাত শিল্পী সুনীল কর্মকার শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৬৭ বছর।
শিল্পীর পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সুনীল কর্মকার কিডনি, শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। অবস্থা অবনতি হলে ৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বান্দনাল গ্রামে জন্ম নেওয়া সুনীল কর্মকারের সাত বছর বয়স থেকে চোখে আলো ছিল না। তবে অন্ধত্ব কখনো তাঁকে জীবনের পথে বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি, গানচর্চা ও বাউল ধারার সাধনা তাঁর জীবনের মূল ব্রত হয়ে দাঁড়ায়।
সুনীল কর্মকার বাউল ধারার পাশাপাশি বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়ামসহ একাধিক বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তাঁর কণ্ঠের আবেগ, সাধনাধর্মী উপস্থাপন ও গভীর জীবনবোধ দ্রুত শ্রোতামহলে আলাদা পরিচিতি তৈরি করে। গীতিকার হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন; প্রায় দেড় থেকে দুই শতাধিক বাউল ও লোকগান রচনা করেছেন। স্থানীয় ও আঞ্চলিক মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বাউল আসরে তাঁর উপস্থিতি নিয়মিত ছিল।
ময়মনসিংহ বাউল সমিতির সভাপতি হিসেবে তিনি সংগঠনটিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আসলাম বলেন, “বাউল সংগীতের সাধনা ও মাটির মানুষের কথা গানে তুলে ধরার জন্য সুনীল কর্মকার স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বাংলা লোকসংগীতের ইতিহাসে। বিশেষ করে ময়মনসিংহের লোকগানের প্রচার ও প্রসারে তার অবদান অনস্বীকার্য।”
কবি ও সংগঠক শামীম আশরাফ বলেন, “নির্মোহ মানুষের প্রতিচ্ছবি সুনীল কর্মকার। যার জীবনের প্রতি বাঁকে ছিল সংগ্রাম, সাধনা ও নিষ্ঠা।”
সুনীল কর্মকারের প্রয়াণে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা অঞ্চলসহ পুরো সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমেছে। তাঁর ভক্ত ও শুভাঙ্ক্ষীরা আশা করছেন, আজীবন সুরকে ধারণ করে চলা এই সংগ্রামী বাউল শিল্পী তাঁর সুর ও কর্মে বেঁচে থাকবেন।
সিএ/এসএ


