২০২৪ সালের রোমান্টিক ড্রামা ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ শুধু সিনেমা প্রেক্ষাগৃহেই নয়, আদালতের কক্ষে এবং বিনোদন মাধ্যমের গসিপেও সরগরম করেছে। ছবির প্রধান দুই তারকা ব্লেক লাইভলি ও জাস্টিন বালদোনি একে অপরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং মানহানির অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন।
শুটিং চলাকালীন সময়ে লাইভলি অভিযোগ করেন, বালদোনি এবং তাঁর ব্যবস্থাপনা–বিশেষজ্ঞ তাঁকে শত্রুতাপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করেছেন।
আগস্ট ২০২৪: ছবির প্রচারণা শুরুতেই দ্বন্দ্বের আভাস পাওয়া যায়। লাইভলি সহশিল্পী ব্র্যান্ডন স্কলেনার ও লেখিকা কলিন হুভারের উপস্থিতিতে যদিও সম্পর্ক স্থিতিশীল মনে হলেও বালদোনি একক সাক্ষাৎকারে পারিবারিক নির্যাতন ও শুটিং সেটের অসুবিধা বারবার তুলে ধরেন।
ডিসেম্বর ২০২৪: ৩১ ডিসেম্বর লাইভলি আদালতে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, শুটিং সেটে অশালীন মন্তব্য, পর্নোগ্রাফি নিয়ে আলোচনা এবং তাঁর উপস্থিতিতে অশ্লীল ভিডিও দেখানো হয়েছে। এছাড়া জনসংযোগ টিমের নেতৃত্বে একটি পরিকল্পিত চরিত্রহননের চেষ্টা চালানো হয়েছে।
জানুয়ারি ২০২৫: বালদোনি পাল্টা মামলা দায়ের করেন এবং ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন, অভিযোগে লাইভলি ও তাঁর স্বামী রায়ান রেনল্ডসকে অভিযুক্ত করা হয়। বালদোনি যৌন হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এটি কোনো আচরণগত অপরাধ নয়, বরং ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংঘাত।”
জুন ২০২৫: এক ফেডারেল বিচারক বালদোনির মানহানির অভিযোগ খারিজ করেন। আদালতের মতে প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ হয়নি। মামলার পরিসর সীমিত হলেও জনমত আগ্রহ হারায়নি।
মে ২০২৫: সুপারস্টার টেইলর সুইফটকে সাক্ষী হিসেবে সমন পাঠানো হয়। পরে সমন প্রত্যাহার করা হলেও আদালতের নথিতে তাঁর নাম থেকে যায়। লাইভলি স্পষ্ট করেন, “সুইফটের সরাসরি জড়িত থাকার কোনো প্রয়োজন ছিল না।”
আগস্ট-সেপ্টেম্বর ২০২৫: আইনি লড়াই দীর্ঘ হওয়ায় লাইভলির ব্যক্তিগত সম্পর্কেও ফাটল দেখা দেয়। তিনি সম্পর্ক ভেঙে পড়ার সঙ্গে তুলনা করেন এবং সুইফটের ঘনিষ্ঠ মহলে স্বস্তি প্রকাশ করেন।
জানুয়ারি ২০২৬: আদালতের নথিতে লাইভলি ও সুইফটের বার্তালাপ প্রকাশ্যে আসে। একটি বার্তায় সুইফট বালদোনির পিআর কৌশলকে কটূভাবে উল্লেখ করেন। লাইভলি নিজেকে ‘খারাপ বন্ধু’ হিসেবে দায় স্বীকার করেন এবং সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা করেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, লাইভলির যৌন হয়রানির মামলা ২০২৬ সালের মে মাসে শুনানির জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এই মামলাটি কেবল ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়, বরং হলিউডে ক্ষমতা, সেলিব্রিটি প্রভাব এবং আইনি জটিলতার সংমিশ্রণকে তুলে ধরে।
সিএ/এএ


