বর্তমান বিশ্বের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে কয়েকজন ধনকুবেরের হাতেই বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ। এই চরম কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা তথ্যের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং মতপ্রকাশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স এবং অন্যান্য সূত্র অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ইলন মাস্ক (টেসলা, স্পেসএক্স), ল্যারি এলিসন (ওরাকল), মার্ক জাকারবার্গ (মেটা) ও জেফ বেজোস (অ্যামাজন)। ফোর্বসের ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের বার্ষিক তালিকা অনুযায়ী তাদের আনুমানিক সম্পদ ছিল—ইলন মাস্ক ৩৪২ বিলিয়ন ডলার, মার্ক জাকারবার্গ ২১৬ বিলিয়ন ডলার, জেফ বেজোস ২১৫ বিলিয়ন ডলার এবং ল্যারি এলিসন ১৯২ বিলিয়ন ডলার।
জেফ বেজোস ২০১৩ সালে ২৫০ মিলিয়ন ডলারে আমেরিকার প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট কিনেন। বেজোসের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় পত্রিকাটি ডিজিটাল যুগে আরও সক্রিয় হয়ে উঠলেও, এর সম্পাদকীয় স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইলন মাস্ক ২০২২ সালে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার কিনে এক্স হিসেবে পুনঃনির্ধারণ করেন। মাস্কের দাবি, তিনি বাক্স্বাধীনতা রক্ষার জন্য প্ল্যাটফর্মটি কিনেছেন। তবে বাস্তবে এক্সের অ্যালগরিদম, কোন সংবাদ প্রচার হবে বা মুছে ফেলা হবে, তা সরাসরি মাস্কের নিয়ন্ত্রণে। বিশ্লেষকদের মতে, তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক এজেন্ডা তথ্যপ্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে।
মার্ক জাকারবার্গ সরাসরি কোনো সংবাদমাধ্যমের মালিক না হলেও, তার প্রতিষ্ঠিত মেটা প্ল্যাটফর্মস (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ) বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে সংবাদ পৌঁছানোর প্রধান মাধ্যম। কোন খবর বেশি দেখাবে বা আর্থিকভাবে লাভবান হবে তা নির্ধারণ করে জাকারবার্গের সংস্থার অ্যালগরিদম।
ল্যারি এলিসন সরাসরি কোনো সংবাদমাধ্যম কিনেননি, তবে টুইটার ও টিকটকের ওপর তার প্রভাবপরিপ্রেক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ। এলিসন টুইটারে ইলন মাস্কের অধিগ্রহণে বিনিয়োগ করেছিলেন এবং ওরাকলের মাধ্যমে টিকটকের মার্কিন কার্যক্রমের ক্লাউড ও অ্যালগরিদম তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এর ফলে গণমাধ্যমে তার প্রভাবও শক্তিশালী হয়েছে।
মিডিয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। তথ্যের প্রবাহ ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও সরকারগুলোর জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে উদ্ভূত হয়েছে।
সিএ/এসএ


