হুমকি ও ভয় দেখানোর অভিযোগে করা মামলার শুনানিতে আদালতে হাজির হয়ে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী বলেছেন, মামলার বাদীকে তিনি কখনো দেখেননি, চেনেন না। এমন অবস্থায় তাকে হুমকি দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না বলে আদালতকে জানান তিনি।
সোমবার সকালে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আদনান জুলফিকারের আদালতে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে হুমকি ও ভয় দেখানোর অভিযোগে করা মামলা থেকে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরীকে অব্যাহতি দেন আদালত।
সকাল ১০টার দিকে মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরী আদালতে উপস্থিত হন। বেলা ১১টার দিকে তারা এজলাসে ওঠেন। শুনানিকালে মেহজাবীনের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার নীল রঙের জবাব দাখিলের কাগজ বিচারকের সামনে উপস্থাপন করেন।
আইনজীবী তুহিন হাওলাদার আদালতে বলেন, মামলার বাদীর দেওয়া ঠিকানা ভুয়া এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ১২ ডিজিটের। তিনি আরও বলেন, মেহজাবীন একজন অভিনেত্রী, তিনি বাদীকে চেনেন না এবং তার সঙ্গে কোনো পরিচয় নেই। সুতরাং হুমকি দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিনেত্রীর সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে মামলার বাদী আমিরুলের পক্ষে আইনজীবী রায়হান গাজী বলেন, আসামিরা ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, আসামিরা বাদীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন এবং টাকা ফেরত চাওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এ সময় বিচারক বাদীকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনাকে কে হুমকি দিয়েছে?’ জবাবে বাদী বলেন, ‘ওনারা হাতিরঝিল এলাকায় আমাকে হুমকি দিয়েছে।’ বিচারক জানতে চাইলে বাদী বলেন, ‘না, তার ভাই হুমকি দিয়েছে। বিভিন্ন অপরিচিত লোক দিয়ে তিনি হুমকি দিয়েছেন।’
এ পর্যায়ে বিচারকের প্রশ্নের জবাবে মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা তাকে কখনোই দেখিনি। তাকে চিনি না। তার সঙ্গে কোনো দিন কথাও হয়নি। বাদী কোনোভাবেই প্রমাণ দিতে পারেননি। বিকাশ-নগদের মাধ্যমে যে ২৭ লাখ টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে এটার বিষয়ে কোনো প্রমাণও নেই।’
বিচারক তখন বলেন, এই মামলায় বিচার্য বিষয় ২৭ লাখ টাকা নয়, বরং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ। এরপর বিচারক জানতে চান, ভবিষ্যতে হুমকি দেওয়া হবে কি না। জবাবে মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, হুমকি দেওয়ার কোনো প্রশ্নেই আসে না।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত এই মামলা থেকে মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরীকে অব্যাহতি দেন।
সিএ/এসএ


