দেখতে দেখতে ৩৯ পেরিয়ে জীবনের চল্লিশতম বসন্তে পা রাখলেন বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) তাঁর ৪০তম জন্মদিন। এদিন সহকর্মী থেকে শুরু করে ভক্তরা তাঁকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় ভাসাচ্ছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি সুস্থ জীবনযাপন ও নিয়মিত ফিটনেস চর্চার জন্য দীপিকা দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের কাছে অনুপ্রেরণার নাম। বয়স কেবল একটি সংখ্যা—তার জীবন্ত প্রমাণ তিনি নিজেই। জন্মদিনের দিনে ফিরে দেখা যাক, কীভাবে ৪০-এও নিজেকে ফিট, শক্তিশালী ও গ্ল্যামারাস রাখেন দীপিকা।
দীপিকার ফিটনেস রুটিনের মূল ভিত্তি যোগব্যায়াম, পিলাটেস, স্ট্রেংথ ট্রেনিং এবং ফোকাসড ওয়ার্কআউট। এর পাশাপাশি তিনি মেনে চলেন সুষম খাদ্যাভ্যাস। তবে নিজেকে কঠোর নিয়মে বাঁধেন না; মাঝেমধ্যে প্রিয় খাবারও উপভোগ করেন, যার ঝলক প্রায়ই দেখা যায় তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ব্যস্ত শুটিংয়ের দিনে সময় না পেলে দীপিকা অনুসরণ করেন তাঁর নিজস্ব ‘সিম্পল ৫-মিনিট রুটিন’। গত বছর ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “আমি সুন্দর দেখানোর জন্য নয়, সুস্থ থাকার জন্য ব্যায়াম করি। ব্যায়াম আমার জীবনের অংশ।” ওই পোস্টে তাকে দেখা গেছে লেগস-আপ-দ্য-ওয়াল পোজ করতে, যা মানসিক চাপ কমায়, স্নায়ুতন্ত্র শান্ত রাখে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
যোগচর্চার আরেক ঝলকে দীপিকাকে দেখা গেছে উত্তান শিশোসন বা এক্সটেন্ডেড পাপি পোজ করতে, যা কাঁধ, মেরুদণ্ড ও উপরের পিঠ প্রসারিত করার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
চলচ্চিত্র ‘গেহরাইয়াঁ’-এর জন্য যোগ প্রশিক্ষক আনুশকার তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন কঠোর অনুশীলন করেছিলেন দীপিকা। তাঁর ফিটনেস ট্রেনার ইয়াসমিন কারাচিওয়ালা জানিয়েছেন, চক্রাসন, মালাসন এমনকি হেডস্ট্যান্ডেও অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি।
যোগব্যায়ামের পাশাপাশি স্ট্রেংথ ট্রেনিং-এও সমান মনোযোগী দীপিকা। ইয়াসমিন কারাচিওয়ালার শেয়ার করা এক ভিডিওতে ভোর ৬টায় তাঁকে ব্যাটলিং রোপস এক্সারসাইজ করতে দেখা যায়, যা শক্তি বৃদ্ধি, সহনশীলতা উন্নত এবং ক্যালোরি বার্নের জন্য কার্যকর।
ফিটনেস রুটিনে রয়েছে কনসেনট্রেশন ও পার্টনার ওয়ার্কআউট, যা শরীরের ভারসাম্য, কোর স্ট্রেংথ এবং সমন্বয় ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ‘গেহরাইয়াঁ’ ছবির শুটিংয়ে সহশিল্পী আন্যা পান্ডের সঙ্গে অ্যারোবিক ও অ্যাক্রোযোগা চর্চা-তেও অংশ নেন দীপিকা।
ফিটনেস সচেতন হলেও দীপিকা বাস্তবতাবাদী। প্যানকেক, ক্রিম বা ব্রাউনি—সবই তাঁর খাদ্যতালিকায় জায়গা পায়। তিনি এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখেছেন, “আমি খাই, ভালো করেই খাই। আসল চাবিকাঠি হলো ভারসাম্য, ধারাবাহিকতা আর নিজের শরীরের কথা শোনা।”
ব্যায়াম না করা দিনগুলোতেও পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামকে সমান গুরুত্ব দেন দীপিকা। তাঁর মতে, শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া মানেই পরের দিনের জন্য নতুন শক্তি ও উদ্যম সঞ্চয়।
৪০-এ দাঁড়িয়েও দীপিকার জীবনযাপন তাই শুধু গ্ল্যামারের গল্প নয়—শৃঙ্খলা, সচেতনতা এবং নিজের শরীরকে ভালোবাসার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।
সিএ/জেএইচ


