চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে তিনদিনব্যাপী Entrepreneurship Expo ২০২৬ শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই এক্সপোতে প্রথম দিন থেকেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি ও জমজমাট বেচাকেনা লক্ষ্য করা গেছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উদ্যোক্তাদের স্টল প্রস্তুত হয়। একইসঙ্গে একদিকে এক্সপো ফেয়ার চলার পাশাপাশি অন্যদিকে উদ্যোক্তা উন্নয়নমূলক সেমিনার সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উদ্যোক্তারা যেমন সরাসরি তাদের পণ্য ও সেবা বাজারে উপস্থাপনের সুযোগ পান, তেমনি দর্শনার্থীরাও উদ্যোক্তা কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা লাভ করেন।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্যমতে, এই এক্সপোর মূল লক্ষ্য হলো উদীয়মান উদ্যোক্তাদের বাস্তব বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করা, পণ্য ও সেবার গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা এবং একটি উদ্যোক্তা-বান্ধব ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। এক্সপোতে ৪৫টিরও বেশি স্টল বসেছে, যেখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উদ্যোক্তা এবং ঢাকার কয়েকটি স্টার্টআপ অংশগ্রহণ করেছে। ফুড, হস্তশিল্প, ফ্যাশন, টেক-ভিত্তিক সার্ভিস ও লাইফস্টাইল পণ্যসহ নানা খাতের উদ্যোগ প্রদর্শিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে আয়োজক শিক্ষার্থী আনিকা হাসান রুপন্তী বলেন,
‘আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় Entrepreneurs Startup Society থেকে এই এক্সপোর আয়োজন করেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করা এবং যেন কোনো উদ্যোক্তা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করা। আমরা যতটা সাড়া আশা করেছিলাম, তার চেয়েও বেশি সাড়া পাচ্ছি। পাশাপাশি অভিজ্ঞ উদ্যোক্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যারা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করছেন।’
এক্সপোর পাশাপাশি আয়োজিত সেমিনার সেশনে উদ্যোক্তা হওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা, ইনোভেশন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন অতিথি বক্তারা। সেমিনারে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রশিদ সোহাগ (সিইও, Pupil School Bus), আবুল কাশেম (সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর, XPONENT) এবং ফজলুর রহমান (ফাউন্ডার, সিইও ও চেয়ারম্যান, Tutor Lagbe)।
আব্দুর রশিদ সোহাগ বলেন,
‘উদ্যোক্তার আইডিয়া ব্যক্তিগত সমস্যার চেয়ে সামাজিক বাস্তবতা থেকে আসা উচিত। সমাজের সমস্যাকে কেন্দ্র করে কার্যকর সমাধান দিতে পারলেই একটি উদ্যোগ টেকসই হয়।’
আবুল কাশেম তার বক্তব্যে আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,
‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যবসার প্রতিটি ধাপকে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে।’
ফজলুর রহমান বলেন,
‘ইনোভেশন মানে শুধু নতুন কিছু তৈরি করা নয়, বরং আশপাশের সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান দেওয়া। পণ্যের কার্যকারিতা ও মূল্যই একটি উদ্যোগের সাফল্য নির্ধারণ করে।’
তিনদিনব্যাপী এই এক্সপো ও সেমিনারের মাধ্যমে উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ, নেটওয়ার্কিং এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আয়োজকদের আশা,
Entrepreneurship Expo ২০২৬ তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাস্তব বাজার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোগের প্রস্তুতির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
মোতাহের উদ্দিন, চবি প্রতিনিধি
সিএ/জেএইচ


