প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক ছুঁতে চললেও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো গড়ে ওঠেনি একটি স্থায়ী শহীদ মিনার। ফলে প্রতি বছর মহান শহীদ দিবস এলে অস্থায়ী কাঠামোর সামনে দাঁড়িয়েই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হয় শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের—যা তাদের মনে তৈরি করে আক্ষেপ, ক্ষোভ আর অপূর্ণতার বোধ।
২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর প্রথমদিকে কাপড় দিয়ে তৈরি প্রতীকী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হতো। কিন্তু ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই কাঠামো দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে গেলে তৈরি হয় নতুন সংকট। পরে ২০১২ সালে সম্মান রক্ষার্থে তড়িঘড়ি করে কংক্রিটের একটি অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়—যেটিই এখন পর্যন্ত একমাত্র ভরসা।
শিক্ষার্থীদের মতে, শহীদ মিনার কেবল একটি স্থাপনা নয়—এটি ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগ, ইতিহাস ও বাঙালি পরিচয়ের প্রতীক। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি এলেই অস্থায়ী কাঠামোর সামনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাতে হয়, যা একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।
বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. খাইরুল ইসলামও একই সুরে বলেন, দেশের প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই স্থায়ী শহীদ মিনার রয়েছে। তাই তাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি, যাতে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন মাস্টারপ্ল্যানের মধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে প্রকল্প অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
তাই ভাষার জন্য জীবন দেওয়া শহীদদের স্মরণে স্থায়ী স্মারক নির্মাণের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বেরোবি পরিবার—আশা, একদিন এই শূন্যতাও পূরণ হবে।


