অন্তর্বর্তী সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসর সুবিধা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে বিদ্যমান আইনে বড় পরিবর্তন আনছে। নতুন অধ্যাদেশে ইবতেদায়ি মাদরাসা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং পরিচালনা পর্ষদ ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশ করে। আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম জানান, অধ্যাদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নতুন অধ্যাদেশে ২০০২ সালের মূল আইনের সংজ্ঞা ও পরিধি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আইনের ২ ধারায় সংশোধন আনা হয়েছে, যেখানে ‘প্রতিষ্ঠান’ শব্দের সঙ্গে ‘এমপিওভুক্ত’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কলেজের পাশাপাশি দাখিল ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের ইবতেদায়ি মাদরাসাকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
অবসর সুবিধা বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এখন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া আইনের ৬(১)(ড) ধারায় একজন পরিচালক বোর্ডের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিচালনা পরিষদে জনপ্রশাসন ও অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সরকার মনোনীত ১১ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারী সদস্য থাকবেন। মনোনীত সদস্যদের মেয়াদ হবে ৩ বছর।
শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন একটি ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যদি কোনো কারণে বোর্ড গঠন করা সম্ভব না হয়, তবে সরকার অনুমোদন সাপেক্ষে শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসর সুবিধা অন্তর্বর্তীকালীনভাবে প্রদান করা যাবে। এছাড়া অধ্যাদেশে ‘প্রদান’ শব্দের পরিবর্তে ‘অনুমোদন’ শব্দের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা হয়েছে। বোর্ডের স্থায়ী তহবিলের অর্থ শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, সরকারি বন্ড বা বিলে বিনিয়োগ করা যাবে। তহবিল অন্য কোনো কাজে ব্যয় করা যাবে না। তহবিল পরিচালনার পদ্ধতি প্রবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
সংশোধিত আইনের ১২(২) ধারা অনুযায়ী, বোর্ডের প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন একজন পরিচালক। সরকার প্রেষণে নিযুক্ত ওই কর্মকর্তা বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বোর্ডের কাজ পরিচালনার জন্য সরকার অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে।
সিএ/এসএ


