সরকার দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নানা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) রোববার (২৫ জানুয়ারি) দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে এই নির্দেশনা প্রেরণ করেছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রয়, ব্যবহার ও প্রচার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সব প্রতিষ্ঠানকে ‘তামাকমুক্ত’ ঘোষণা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সাইনেজ প্রদর্শন করতে হবে। এছাড়া, তামাক শিল্পের যেকোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা বা প্রচারণাও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য ও উচ্চ চিনিযুক্ত পানীয়ের বিপণন সীমিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প ও ‘হেলদি ক্যান্টিন’ স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্যান্টিনে খাবারে স্বল্প লবণ, চিনি ও ট্রান্স-ফ্যাটমুক্ত খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি সভাগুলোতেও তাজা ফল, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স সরবরাহ করতে হবে।
শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার শারীরিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ নেই, সেখানে ইনডোর কার্যক্রমের ব্যবস্থা নিতে হবে। শিশুদের জন্য সাঁতার শেখানো এবং কর্মীদের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ডেস্ক-ভিত্তিক স্ট্রেচিং ব্যায়ামের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক বান্ধব সিঁড়ি ও র্যাম্পসহ অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার, সাইক্লিং এবং দীর্ঘসময় বসে না থাকার মতো স্বাস্থ্যবান্ধব জীবনাচার উৎসাহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাউশি জানিয়েছে, এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের গৃহীত কার্যক্রমের নিয়মিত বাস্তবায়নের প্রতিবেদন মাউশির বিশেষ শিক্ষা শাখায় প্রেরণ করতে হবে। প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, সরকারের এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের মধ্যে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাবে এবং সুস্থ-সবল জাতি গঠনে সহায়ক হবে।
সিএ/এসএ


