প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’ উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এটি উত্থাপনের কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন পেলে আইনটি রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করা হবে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অন্তর্বর্তী প্রশাসক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস জানিয়েছেন, খসড়া অধ্যাদেশটি ইতোমধ্যে আন্তমন্ত্রণালয় সভায় গৃহীত হয়েছে। সভার সিদ্ধান্তগুলো অন্তর্ভুক্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও অধ্যাদেশটির অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং সম্পন্ন হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের আসন্ন বৈঠকে এটি তোলা হবে বলে তিনি শুনেছেন।
খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় সব সুবিধাসহ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত উপযুক্ত ভবন ও স্থান ভাড়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।
এই আইনের অধীনে সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাডেমিকভাবে সংযুক্ত থাকবে। এসব কলেজে স্নাতক, স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান কার্যক্রম চলবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও সংযুক্ত কলেজে পাঠ্যক্রম নির্ধারণ, পরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষাদানের দায়িত্ব পালন করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের জন্য গবেষণাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করার কথাও খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে। নির্ধারিত পাঠ্যক্রম বা কোর্স সম্পন্নকারীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ডিগ্রি, ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ১৩ জানুয়ারি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের পথে রয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করা হয়েছে, যা শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
রাজধানীর সাত কলেজকে সমন্বিত করে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রায় দেড় বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকার প্রথম খসড়া প্রকাশ করে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। পরে বিভিন্ন আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে সংশোধন এনে ডিসেম্বর মাসে নতুন খসড়া প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত খসড়ায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
খসড়া অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলি তাঁদের নাগরিক ও অন্যান্য অধিকার অক্ষুণ্ন রেখে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিধিমালার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ বা ইউনিটের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যোগ্যতা থাকলে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারসহ অন্যান্য ক্যাডারের পেশাজীবীদের প্রেষণ বা লিয়েনে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সিএ/এসএ


