শিক্ষার্থীদের ‘নেতৃত্ব কেবল করপোরেট অফিস বা বোর্ডরুমে সীমাবদ্ধ নয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নৈতিক সংকটের সময়ও নেতৃত্বের পরীক্ষা হয়। সি আর আবরার বলেন, গণতন্ত্রের সংগ্রাম কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়, বরং এর বাস্তব মানবিক মূল্য রয়েছে। নাগরিকদের সচেতনতা, সম্পৃক্ততা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে গণতন্ত্র রক্ষা পায়। বিশ্ববিদ্যালয় এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শিক্ষার্থীদের তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞান দেয়ার স্থান নয়, এটি বিবেক, প্রশ্ন করার ক্ষমতা ও ন্যায়-অন্যায়ের বোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্র। এছাড়া দেশের উচ্চশিক্ষা স্তরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদানের কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রমাণ করেছে, বেসরকারি উচ্চশিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয়, জনস্বার্থেও কাজ করতে পারে। তবে শিক্ষার ব্যয় ও সুযোগের বৈষম্য নিয়েও ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।
স্নাতকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগের সময় শিক্ষার্থীদের হাতে রয়েছে সুযোগ, দৃশ্যমানতা ও সুবিধা। এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহারই প্রকৃত নেতৃত্বের মানদণ্ড। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, সুযোগ সম্প্রসারণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা শিক্ষার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা ওই নির্দলীয় আন্দোলন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা সাহসী ভূমিকা পালন করে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নাগরিক অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ছিলেন।
সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। স্বাগত বক্তব্য দেন কনভোকেশন মার্শাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. মামুন মোল্লা। ডিগ্রিপ্রার্থীদের উপস্থাপন করেন বিভিন্ন স্কুলের ডিনগণ।
ইউজিসির চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের মধ্যে ভালো ও মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা থাকে। শিক্ষিত শিক্ষার্থী তা গভীরভাবে ও দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকার জন্য অভিনন্দন জানান।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন শিক্ষার্থীদের স্থানীয় প্রেক্ষাপট উপযোগী পাঠক্রম, গবেষণা ও প্রকাশনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। এনএসইউর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার সততা ও সহমর্মিতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেন।
উপাচার্য আবদুল হান্নান চৌধুরী শিক্ষার্থীদের বলেন, আজ শুধু ডিগ্রি নয়, দেশের উন্নয়ন ও জাতির রূপান্তরের দায়িত্বও তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা যেন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হয়।
সমাবর্তনের প্রথম দিনের দ্বিতীয় অংশে ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা সনদ গ্রহণ করেন। এছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী সমাবর্তনের প্রথম দিনের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
সিএ/এসএ


