ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সেখানকার ক্রেতাদের কেনাকাটার কমে যাওয়ার প্রভাবে দেশের তৈরি পোশাক খাত নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।
এ অবস্থাকে আরও জটিল করেছে বিদেশি বায়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর মার্কিন ট্যারিফ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তহীনতা এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা। এর ফলে গার্মেন্টসের অর্ডার ক্রমশ কমছে এবং রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে।
কমল দে
২ মিনিটে পড়ুন
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে, বিশেষ করে জুলাই মাসে বাংলাদেশের গার্মেন্টস রফতানিতে রেকর্ড ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও মার্কিন ট্যারিফ সমস্যার কারণে আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী জানান, “বর্তমানে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ট্যারিফ ঘোষণার পর থেকেই অর্ডার কমতে শুরু করেছে।”
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের রফতানি আয় যুক্তরাষ্ট্রে ৩.২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে ৭.৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যুক্তরাজ্যে ১.৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং অন্যান্য বাজারে ২.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে।
বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রফিক চৌধুরী জানান, প্রথম পর্যায়ে মার্কিন ট্যারিফের জটিলতা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বায়াররা অর্ডার দিতে ধীরে চলছে। “দেশের স্থিতিশীলতা ও সামনে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বায়াররা সম্ভাব্য লোকসান এড়াতে বাংলাদেশে অর্ডার কমিয়ে অন্য দেশে তা বাড়িয়েছে।”
অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান এসএম আবু তৈয়ব বলেন, “ইউরোপ ও অন্যান্য বাজারের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ক্রেতারা কম কিনছে, যা সরাসরি বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতকে প্রভাবিত করছে।”
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত ৩৯.৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে নানা সংকটের মধ্যেও খাতটি এগিয়ে এসেছে। ব্যবসায়ীরা আশাবাদী, মার্কিন ট্যারিফ ও অন্যান্য জটিলতা কাটিয়ে গার্মেন্টস সেক্টর পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে।
সিএ/এসএ


