চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, সংশোধিত এডিপির আকার ২ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস হতে অর্থায়ন ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ৭২ হাজার কোটি টাকা।
মূল এডিপির তুলনায় অভ্যন্তরীণ উৎসে ১৬ হাজার কোটি এবং বৈদেশিক উৎসে ১৪ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। অর্থাৎ মোট ৩০ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করা হয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা কর্পোরেশনের আরএডিপি’র আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৮ হাজার ৯৩০ কোটি ৫৩ লাখ এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ৫ কোটি টাকা।
সংশোধিত এডিপিতে মোট ১,৩৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ১,১০৮টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ৩৫টি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প, ১২২টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং ৬৬টি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা/কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প। এছাড়া বরাদ্দবিহীনভাবে অননুমোদিত ৮৫৬টি প্রকল্প, বৈদেশিক সাহায্য সুবিধার্থে ১৫৭টি প্রকল্প এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৩৫টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পিপিপি প্রকল্প ৮১টি এবং জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের ১৭০টি প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত।
সেক্টরভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্ত খাতগুলো হলো: ১) পরিবহন ও যোগাযোগ, ২) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ৩) গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলী, ৪) শিক্ষা এবং ৫) স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন। এই ৫টি খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৬০.৫৪ শতাংশ।
মন্ত্রণালয়/বিভাগ ভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: ১) স্থানীয় সরকার বিভাগ, ২) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, ৩) বিদ্যুৎ বিভাগ, ৪) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ৫) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, ৬) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ৭) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, ৮) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ৯) সেতু বিভাগ এবং ১০) রেলপথ মন্ত্রণালয়।
সংশোধিত এডিপির বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসার, জিডিপির বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংভরতা অর্জন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সিএ/এসএ


