অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-র সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকটি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি, পরিচালকসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন সদস্যরা।
সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান এবং উল্লেখ করেন যে অর্থমন্ত্রী নিজে একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়ায় শিল্পের সমস্যা গভীরভাবে বুঝতে পারেন। সাক্ষাৎকালে পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো ছিল—
বকেয়া নগদ প্রণোদনা দ্রুত ছাড় ও প্রক্রিয়া সহজ করা: বিজিএমইএ সভাপতি মন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বস্ত্র ও পোশাক খাতে প্রায় ৫৭০০ কোটি টাকার নগদ প্রণোদনা এখনও অনিষ্পন্ন রয়েছে। এই বিলম্বে প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র অর্থ সংকটে রয়েছেন, যা রফতানি সক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে। মন্ত্রী বকেয়া অর্থ দ্রুত ছাড় এবং প্রক্রিয়াকে সহজ করার বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।
পুনঃতফসিলীকরণ ও ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল: সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী জানান, তফসিলি ব্যাংকগুলো এনপিএল পারফরম্যান্স ঠিক রাখার জন্য ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও যথাযথ ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেয় না। ফলে কারখানা সচল থাকে না এবং ঋণ পরিশোধ বাধাগ্রস্ত হয়। মন্ত্রী এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
ব্যবসা সহজ করা ও ব্যয় হ্রাস: বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য ব্যবসা সহজ করা এবং পরিচালন ব্যয় কমানো জরুরি। তারা কাস্টমস, বন্দর ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে নীতি সহায়তার অনুরোধ করেন। অর্থমন্ত্রী উল্লেখিত বাধাগুলো চিহ্নিত করে বিজিএমইএকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশমালা জমা দিতে বলেন।
অর্থমন্ত্রী পোশাক শিল্পকে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এই খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সর্বাত্মক নীতি সহায়তা দেওয়া হবে।
সিএ/এসএ


