সূর্যোদয়ের দেশ জাপান বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন পথ খুলতে যাচ্ছে। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই চুক্তির আওতায় জাপানের বাজারে প্রায় ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা মিলবে, যা বাংলাদেশের রফতানিকে শক্তিশালী করবে।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পর জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি গন্তব্য। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপান থেকে ১৮০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হলেও বাংলাদেশের রফতানি ছিল ১৪০ কোটি ডলার, যার প্রায় ৮০ শতাংশ তৈরি পোশাক। এছাড়া হিমায়িত মাছ, চামড়া ও পাটজাত পণ্যের রফতানি হলেও চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামী নভেম্বর এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার জাপানের সঙ্গে এই ইপিএ করছে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও জাপানের পণ্যের পাশাপাশি উপখাতও উন্মুক্ত করা হবে, যা বাজারে প্রতিযোগিতায় সুবিধা এনে দেবে।
ব্যান্ডো ইকো অ্যাপারেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান কাজী মনির উদ্দিন তারিম বলেন, ২০২৪ সালে রফতানির লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হয়নি এবং বর্তমানে সাড়ে চার হাজার কারখানার মধ্যে মাত্র ১ হাজার ১০০টি কার্যকর। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, জাপানের বাজার প্রায় ২৪-২৫ বিলিয়ন ডলারের, যেখানে বাংলাদেশের রফতানি মাত্র ৩-৪ বিলিয়ন ডলার। জিরো ট্যারিফ সুবিধা ২০২৯ সালের পরেও থাকলে এটি বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আসিয়ানের বাজারেও প্রবেশের পথ প্রসারিত হবে।
অর্থনীতিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই ইপিএ না হলে ভবিষ্যতে জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাত। এখন বিনিয়োগকারীরা স্পষ্ট বার্তা পাচ্ছেন যে বাংলাদেশ জাপানের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সিএ/এসএ


