আইনি জটিলতা ও নানা কারণে নিলাম না হওয়া প্রায় ১০ হাজারের বেশি পণ্য বোঝাই কনটেইনার নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। একই সঙ্গে, ইতোমধ্যেই নিলামে বিক্রি হওয়া আরও ৫৬৪ কনটেইনার পণ্যের ডেলিভারিও আটকে আছে। এই পরিস্থিতিতে কাস্টমস এক সপ্তাহের মধ্যে পণ্য ছাড় নেওয়ার আলটিমেটাম দিয়ে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, আমদানিকারকের ছাড় না করা ২০ ফুট সাইজের ২ হাজার ৮৭৮ টিইইউএস এবং ৪০ ফুট সাইজের ৭ হাজার ৪৫৪ টিইইউএস কনটেইনারের পাশাপাশি ৬৯ হাজার ৮৬০ এলসিএল ও ৬ হাজার ৬৭ প্যাকেজ বাল্ক পণ্য এখন বন্দরের পাশাপাশি কাস্টমসের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাজার কোটি টাকা মূল্যের এসব পণ্য এখনও নিলামে বিক্রি করতে পারেনি কাস্টমস।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, এই পণ্য থাকার কারণে আমাদের অপারেশন সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে না এবং বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আটকা পড়া পুরোনো মালামালে চুরির ঝুঁকি, অগ্নি দুর্ঘটনার সম্ভাবনা এবং অন্যান্য ঝুঁকি থাকে।
মূলত, মামলাসহ নানা জটিলতায় বিদেশ থেকে আমদানি করা এসব পণ্য নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে ছাড় করাতে পারেনি আমদানিকারক। নিয়ম অনুযায়ী এসব পণ্য নিলামে বিক্রি করার কথা থাকলেও সেখানে গতি সৃষ্টি হয়নি। চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, “নিলামে যাওয়ার পরে অনেক আমদানিকারক বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে নিলাম প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। এতে দীর্ঘ সময়ের কারণে অনেক পণ্যের মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২০ বছর আগে আমদানি করা কিছু পণ্য এখনও নিলাম শেডে আটকা আছে। মামলা ও কেমিক্যাল টেস্টসহ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে পণ্য ছাড় না হওয়ায় গুণগত মান নষ্ট হয়েছে এবং অনেক পণ্য বিক্রির অযোগ্য। নিলাম হওয়া পণ্যের মধ্যেও ডেলিভারি আটকে থাকা কারণে দেশকে শত শত কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে সর্বমোট ২ হাজার ১৫ কনটেইনার নিলামের জন্য তোলা হলেও বিক্রি হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৭৩ কনটেইনার। বিক্রি হওয়া পণ্যের মধ্যে মাত্র ৫০৯ কনটেইনারই ডেলিভারি হয়েছে, বাকি ৫৬৪ কনটেইনার এখনো আটকে আছে।
কাস্টমস বিডার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াকুব চৌধুরী বলেন, “বড় লটের বিশেষ কিছু খাদ্যপণ্য সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে নষ্ট হয়েছে। পরবর্তীতে পশু খাদ্য হিসেবে বিড করেও ডেলিভারি হয়নি। এর দায়-দায়িত্ব কার?”
এই পরিস্থিতিতে নিলামের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি বিক্রি হওয়া পণ্যের ডেলিভারি নিশ্চিত করতে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, “নিলাম যাতে দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক হয় এবং সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে, সেই জন্যই গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।” গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি না নিলে পণ্য ও বিডারের জামানত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে।
সিএ/এসএ


