কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। খেলাপি ঋণ কমানো সম্ভব হলে ব্যাংকের তহবিল খরচ কমবে এবং ঋণের সুদের হার কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে আসন্ন গণভোটের বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যও কার্যক্রম নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এসব বিষয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। সভায় উপস্থিত ছিলেন চার ডেপুটি গভর্নর, সব বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
বৈঠকে ক্ষুদ্রঋণ ও ডিজিটাল ঋণ বিতরণে আরও সতর্কতা অবলম্বন, স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম প্রসার বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সের ইতিবাচক ধারা বজায় রাখার পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিশেষ করে আসন্ন গণভোটে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যাংক শাখায় ব্যানার টাঙানো, গ্রাহকদের উৎসাহিত করা এবং এনজিও-সহ অন্যান্য প্রচার কার্যক্রমে ব্যাংকগুলোর সম্পৃক্ততার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩০.৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে। একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাদ দিলে হার দাঁড়িয়েছে ২৪.৫৩ শতাংশ। এর আগে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৫.৭৭ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণ আরও কমাতে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। খেলাপি ঋণ কমলে ব্যাংকের তহবিল খরচ কমবে, ফলে ঋণের সুদের হারও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
সভায় মাইক্রো লোন ও ডিজিটাল ন্যানো লোন কার্যক্রমকে নতুনভাবে সাজাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। যাতে খারাপ গ্রাহকের হাতে ঋণ না পড়ে এবং ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণের ঝুঁকি তৈরি না হয়। স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমকে আরও গুরুত্ব দিতে বলা হয়। প্রতিটি ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপককে বছরে কমপক্ষে দুটি করে স্কুল পরিদর্শন করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব খোলার বিষয়ে সচেতন করতে হবে। এতে ব্যাংকে আমানতের ঘাটতি কমবে।
বৈঠকে জানানো হয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে এবং রমজান ও কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক বাণিজ্যে গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া বিদেশে অফিস খোলার এবং দেশে বিনিয়োগের অনুমোদন দ্রুত দেওয়ার বিষয়েও ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সুদের হার প্রসঙ্গে সভায় জানানো হয়, মূল্যস্ফীতি এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না কমায় এই মুহূর্তে সুদের হার কমানো সম্ভব নয়। তবে দ্রুত সময়ে সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে আনার ওপর কাজ চলছে।
সভা শেষে এবিবির চেয়ারম্যান মাসরুর আরিফিন জানান, ব্যাংক শাখায় গণভোট সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যানার টাঙানো, স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম জোরদার করা, রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সের ইতিবাচক ধারা বজায় রাখা, বৈদেশিক বাণিজ্যে গুরুত্ব দেওয়া এবং বিনিয়োগ ও অফিস খোলার অনুমোদন সহজ করার কাজ চলবে। মূল্যস্ফীতি কমাতে সুদের হার সমন্বয় নিয়ে কাজ চলছে।
সিএ/এসএ


