জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত গণভোটকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ‘হ্যাঁ-না’ পোস্টের প্রতিযোগিতা। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বুধবার মধ্যরাত থেকে ভরে গেছে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ লেখা পোস্টারে। কেউ জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট চেয়ে ‘হ্যাঁ’ পোস্ট দিচ্ছেন, আবার কেউ নির্বাচনের দিন বা পরে গণভোট চেয়ে ‘না’ পোস্ট শেয়ার করছেন। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে প্রথমে ‘না’ ক্যাম্পেইন শুরু হয়। এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পাল্টা ‘হ্যাঁ’ ক্যাম্পেইন চালু করে। দ্রুতই এই ‘হ্যাঁ-না’ প্রচারণা ভাইরাল হয়ে পড়ে। বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় ছাত্রদলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ‘না’ লেখা ফটোকার্ড শেয়ার করা হয়, যা পরে তাদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও পোস্ট করেন।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভেরিফায়েড পেজে ‘হ্যাঁ’ লেখা পোস্ট দেওয়া হয়। ভোরে ছাত্রদলের পেজে আরও একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়, যেখানে লেখা ছিল—‘সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থার ধারা বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রে না’, ‘জুলাই সনদ পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রে না’, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটে না’ এবং ‘জুলাই কারও বাপের না’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের সংক্ষিপ্ত শব্দভিত্তিক প্রচারণা গণভোট ও নির্বাচন ঘিরে জনমত প্রভাবিত করার এক নতুন কৌশল হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নে দ্রুত গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করেছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী ব্যালটে প্রশ্ন থাকবে—আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং তার তপশিলভুক্ত প্রস্তাবগুলোর প্রতি সম্মতি দিচ্ছেন? উত্তর দিতে হবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’।
কমিশন আরও জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও সংসদ হিসেবে কাজ করবে এবং পরিষদের মেয়াদ হবে ২৭০ দিন। যদি ওই সময়ের মধ্যে দায়িত্ব শেষ না হয়, তবে গণভোটে পাস হওয়া প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে।
এদিকে, গণভোট ইস্যুতে রাজনৈতিক বিরোধ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই প্রধান উপদেষ্টা নেবেন।
সিএ/এমআর


