মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকায় জাপান দূতাবাসে আয়োজিত জাপানের সম্রাটের জন্মদিন উপলক্ষে জাতীয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্ব পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা এবং অগ্রগতির গভীরে প্রোথিত।
তিনি জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। যৌথভাবে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে জাপানের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি সফলভাবে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে এবং কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষি কার্ড’ চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, জাপান বাংলাদেশের বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে অবকাঠামো, জ্বালানি ও সংযোগ খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরকে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ সংকটের টেকসই সমাধানে জাপানের গঠনমূলক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া তিনি জাপানের সম্রাটের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, মিশন প্রধান, কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সিএ/এএ


