চলতি বছরের নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা আমেরিকার নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে আগামী ২২ থেকে ২৫ মে অনুষ্ঠিত হবে। এই মিলনমেলায় সব ভাষার সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমী পাঠক, প্রকাশক এবং লেখকরা একত্রিত হবেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এ বছরও (২০২৬) বইমেলায় প্রদান করা হবে ‘মুক্তধারা জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’, যার আর্থিক মূল্য ৩ হাজার মার্কিন ডলার।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিবাসী নতুন লেখকদের প্রকাশিত গ্রন্থ থেকে শ্রেষ্ঠ বইকে দেওয়া হবে ‘শহীদ কাদরী গ্রন্থ পুরস্কার’। এছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থাগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা শ্রেষ্ঠ প্রকাশনা পুরস্কার’।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন আহমেদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘নিউ ইয়র্ক বাংলা বইমেলা প্রবাসে এক টুকুরো বাংলাদেশ। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা গত ৩৪ বছর ধরে নিয়মিতভাবে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এর যাত্রা শুরু হয় ১৯৯২ সালে বিশ্বজিৎ সাহার একক উদ্যোগে। সে বছর জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন করে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দুই দিনব্যাপী বইমেলার আয়োজনের মাধ্যমে মুক্তধারা ও বাঙালির চেতনা মঞ্চ এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের সূচনা করে।’
সংবাদ সম্মেলনে ৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম বক্তব্য দেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, প্রকাশক মনিরুল হক, আলমগীর সিকদার লোটন, সাঈদ বারী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতনামা প্রকাশকদের অংশগ্রহণে নিউ ইয়র্ক বাংলা বইমেলা ক্রমশ সমৃদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লেখক, কবি, শিল্পী এবং পাঠকেরা অংশগ্রহণ করছেন। এ কারণে বইমেলাটি বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চর্চাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে আয়োজন ও ব্যাপ্তি বিবেচনায় একাডেমি আয়োজিত একুশে বইমেলার পর মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই বইমেলাটি উল্লেখযোগ্য।
সিএ/এএ


