ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে ছিনতাই, অজ্ঞান ও মলম পার্টির তৎপরতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে তল্লাশিচৌকি বসানো, পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বিপণিবিতানে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ফেব্রুয়ারি মাসের অপরাধবিষয়ক পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। রাজধানীর শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণিতে অবস্থিত ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভা দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে বেলা ৩টা পর্যন্ত চলে।
সভায় ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ঈদের আগে রাজধানী থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। এই সময় যেন ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টি বা মলম পার্টিসহ কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত না হয়, সেজন্য পুলিশকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সম্ভাব্য অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে তল্লাশিচৌকি স্থাপন করতে হবে এবং নিয়মিত টহল জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে বিপণিবিতানে চাঁদাবাজি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। ঈদের আগে সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্তসংখ্যক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে, যাতে মানুষ বাড়ি ফেরার সময় ভোগান্তিতে না পড়ে। যাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল যাত্রা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের কথাও জানান তিনি।
অপরাধবিষয়ক এই সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. নজরুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ঈদের বাজার ও শপিং মলগুলোতে স্থাপিত সিসি ক্যামেরাগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিকভাবে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।
মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই স্বীকৃতি প্রদান করেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার।
এর মধ্যে অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেরা বিভাগ হিসেবে নির্বাচিত হয় তেজগাঁও বিভাগ। তেজগাঁও বিভাগের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান।
সিএ/এমই


