রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় অপহরণের সোয়া এক ঘণ্টার মধ্যে এক স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ( ৫ ডিসেম্বর) বিকেলে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
অপহৃত শিক্ষার্থীর বাবা খন্দকার শামীম তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মচারী। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে সচিবালয়ে কর্মরত অবস্থায় তিনি ছেলে অপহৃত হওয়ার খবর পান। পরে কাঁদতে কাঁদতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে বিষয়টি জানান। সে সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দপ্তর ত্যাগ করছিলেন। ঘটনা শোনার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমকে ফোন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া উপকমিশনার মাসুদ আলম জানান, বিকেল পৌনে চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই অভিযান শুরু হয়। অপহৃত ছাত্রটি খিলগাঁওয়ের ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি আইডিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বেলা আড়াইটার দিকে স্কুল ছুটির পর চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি তাকে খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুর এলাকার একটি সাততলা নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়।
সেখানে তাকে চড়থাপ্পড় দেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে অপহরণকারীরা তার বাবার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
পুলিশ কৌশলগতভাবে প্রথমে টাকা পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। কোন নম্বরে টাকা পাঠাতে হবে, তা জানতে চাওয়া হলে অপহরণকারীরা নম্বর দিতে দেরি করতে থাকে এবং দর-কষাকষি শুরু করে।
মাসুদ আলম বলেন, দর-কষাকষির মধ্যেই প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে তারা ছাত্রটিকে ভবনের ভেতরে রেখে পালিয়ে যায়। বিকেল পাঁচটার দিকে ওই নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সিএ/এমই


