শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ককটেল, বিস্ফোরক দ্রব্য ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ৪৫টি ককটেলসহ বিস্ফোরক দ্রব্য ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিলাসপুর এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নাশকতার আশঙ্কা থাকায় গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়।
অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) এবং বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা অংশ নেন। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে অবিস্ফোরিত ককটেল শনাক্ত করা হয়। উদ্ধার করা ককটেলগুলো বোম ডিসপোজাল ইউনিটের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর হোসেন বলেন, এলাকায় সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারী কান্দি গ্রামে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুজন নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় পুলিশ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জাজিরা থানায় বিস্ফোরক আইনে ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সিএ/এসএ


